ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার সময় এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম যে বোরকা পরেছিল তা উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার দুপুরে (৪ মে) সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পুকুর থেকে এ বোরকা উদ্ধার করা হয়। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মো. মনিরুজ্জামান জানান, আজ দুপুরে শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআইয়ের তদন্ত দল। শামীমের দেওয়া তথ্যে বোরকাটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আজ বিকাল পাঁচটার দিকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ধ্রুব জৈতি পালের আদালতে হাজির করা হয়শাহাদাত হোসেন শামীম ও জাবেদ হোসেনকে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ২০ এপ্রিল নুসরাত হত্যার সময় আসামি জোবায়ের আহমেদ যে বোরকাটি পরেছিল তা উদ্ধার করে পিবিআই।
উল্লেখ্য, নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।








