ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২২ মে) ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ আদেশ দেন। তার আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিরাজ উদদৌলাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওসি মোহাম্মদ শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
ওসি মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, যৌন হয়রানির ঘটনায় ২৭ মার্চ নুসরাত মা মামলা করেন। সোনাগাজী দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। এর আগে রিমান্ডকালে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন সিরাজ। পরে আদালতে স্বীকাররোত্তিমূলক জবানবন্দিও দেন তিনি।
ওসি শাহ আলম বলেন, এর আগে নুসরাত হত্যায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ এ পর্যন্ত ১২ জন দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরমধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুই তরুণীসহ পাঁচজন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। তখন পাশের বহুতল ভবনের ছাদে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এর আগে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সেটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।








