মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবধরনের আইনি সহযোগিতা দিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। শনিবার (৮ জুন) বিকালে নুসরাতের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাইবার আদালতে রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার সুমন শনিবার সিলেট থেকে সোনাগাজীতে নুসরাতের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি নুসরাতের বাবা-মা ও ভাইদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সব ধরনের আইনি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকার কথা বলেন।
ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘নুসরাত জাহানের হত্যাকারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনবো। তাদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতে কাজ করবো। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিচারের তদারকি করছেন।’
তিনি বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। যেকোনও সময় সে গ্রেফতার হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল ব্যারিস্টার সুমন সাইবার আদালতে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই গত ২৬ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই বলেছে, সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রমাণিত হয়েছে। অনুমতি ছাড়া থানায় নুসরাতের ভিডিও করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার এই তিন অভিযোগের তদন্তে ওসি মোয়াজ্জেমের দোষ পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল নুসরাতকে কৌশলে ওই মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। সেখানে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মামলা করেন। ১০ এপ্রিল ওই মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। বুধবার (২৯ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম।








