চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সন্ত্রাসী অমিত মুহুরি হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি রিপন নাথ। মঙ্গলবার (১১ জুন) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত যুগ্ম মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় তিনি জবানবন্দি দেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জবানবন্দিতে পায়ের কাছে ঘুমাতে বলায় ক্ষোভ থেকে অমিত মুহুরিকে ইট দিয়ে আঘাত করে একাই হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে রিপন নাথ।’
গত ২৯ মে রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অমিতকে গুরুতর আহতাবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। রাত ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ ঘটনায় পরদিন (৩০ মে) কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার নাশির আহমেদ। ওই মামলায় রিপন নাথকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। রিমান্ডের শেষ দিন আজ (মঙ্গলবার) রিপন নাথ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আজিজ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘুমানোর আগে অমিত মুহুরি তাকে (রিপন নাথ) সিগারেট খেতে বারণ করে এবং পায়ের কাছে ঘুমাতে বলে। এতে সে রাজি না হওয়ায় অমিত তাকে জোর করে এবং ভয় দেখায়। একারণে অমিত ঘুমিয়ে গেলে রাগের মাথায় সে ইট দিয়ে অমিতের মাথায় আঘাত করে। একাই তাকে খুন করে।’
অমিত মুহুরি নগরের সিআরবির জোড়া খুনের মামলার আসামি। রাউজান পৌরসভার রেজাউল করীমের ছেলে ইমরানুল করিম ইমন হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে দীর্ঘ দুই বছর অমিত মহুরি কারাগারে ছিলেন।
২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট নগরীর কোতোয়ালী থানার এনায়েত বাজার রানীর দিঘী থেকে সিমেন্ট ঢালাই করা ড্রামের ভেতর থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত যুবক রাউজান পৌরসভার রেজাউল করীমের পুত্র ইমরানুল করিম ইমন (২৬)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩০ আগস্ট শফিক ও শিশির নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, স্ত্রীর সঙ্গে পরকিয়া সম্পর্ক থাকার সন্দেহে ৮ আগস্ট রাতে বাল্যবন্ধু ইমনকে নগরীর নন্দনকাননস্থ নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে যায় যুবলীগকর্মী অমিত মহুরি। সেখানে রাতভর নির্যাতনের পর ভোরে ইমনকে হত্যা করে লাশ ড্রামে ভরে রাখে। তিনদিন বাথরুমে রেখে ১২ আগস্ট গভীর রাতে ড্রামভর্তি লাশ পাশের রানীর দিঘিতে ফেলে দেয় অমিত মুহুরি।
অন্যদিকে, রিপন নাথ পহাড়াতলী থানার সাগরিকা এলাকায় অবস্থিত অর্গানিক জিন্স নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিল। অশোভন আচরণের জন্য তাকে কারখানা থেকে বরখাস্ত করার পর সে ছুরি নিয়ে ওই কারখানায় প্রবেশ করলে কারাখানা কর্তৃপক্ষ তাকে গত ১০ এপ্রিল পুলিশে সৌপর্দ করে। পরে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার দিন (২৯ মে) বিকালে তাকে কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের ৬ নম্বর কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। রাতে ওই কক্ষেই ইট দিয়ে আঘাত করে অমিত মুহুরিকে হত্যা করে রিপন নাথ। ওই কক্ষে বেলাল নামে আরেকজন কয়েদিও ছিল।








