সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার কুকীর্তি দেখে ফেলায় তিনি আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “পাথরের সঙ্গে কপাল ঠুকলে মাথা ফাটবে, নাকি পাথর?” আমি বলেছিলাম মাথাই ফাটবে।’ তখন উনার অনেক ক্ষমতা ছিল, তাই তখন প্রতিবাদ করতে পারিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সাক্ষ্য ও জেরাকালে মাদ্রাসার নৈশ প্রহরী মোহাম্মদ মোস্তফা এসব কথা বলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহাম্মদ এবং বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তারা বলেন, ‘পাঁচ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে মোস্তফাকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান নয়ন ও আহসান কবির বেঙ্গল নুরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন নান্নু, মাহফুজুল হক জেরা করেন।
আগামী রবিবার সকাল ১১টায় এই মামলার ছয় নম্বর সাক্ষী লোকমান হোসেনের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য রাখা হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টায় কঠোর নিরাপত্তায় মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামিকে কারাগার থেকে বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়।
বাদীর আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী নৈশপ্রহরী মোস্তফা তার বক্তব্যে অনড় ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২৭ ও ৩০ জুন নুসরাত হত্যা মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর নুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তি ও চার নম্বর সাক্ষী মাদ্রাসার অফিস সহকারী নুরুল আমিনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করে।
২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলা ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।
এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান ওরফে রাফিকে ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতকে যৌন হয়রানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনায় নুসরাতের মা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওই মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় নুসরাতকে।








