চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে ভূমি ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় ৭০০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। রবিবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার মধ্যে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিবারগুলো আটটি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার রাজিব হোসাইন এসব তথ্য জানান।
রাজিব হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার (৬ জুলাই) বৃষ্টি শুরুর পর থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়। আজ রাত পর্যন্ত মাইকিং অব্যাহত আছে। পাশাপাশি এসি ল্যান্ড স্যাররা অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে এনেছেন। উনারা বারবার গিয়ে দেখেছেন প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ পাহাড়ে থেকে গেছেন কিনা।’
জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘রাত ১০টা পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ ও কাট্টলী মিলে তিনটি সার্কেলের প্রায় ৭০০ পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে বাকলিয়া সার্কেলের আওতাধীন লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২০টি, চান্দগাঁও সার্কেলের আওতাধীন রৌফাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৭টি ও আলহেরা ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ২০০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া আগ্রাবাদ সার্কেলের আওতাধীন ছৈয়দাবাদ স্কুলে ২০টি, কাট্টলী সার্কেলের আওতাধীন কোয়াড পি-ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৮টি, ফিরোজ শাহ ই-ব্লক স্কুলে ৭৯টি, চট্টগ্রাম মডেল হাইস্কুলে ৮০টি এবং কৈবল্যধাম বায়তুল আমান মাদ্রাসায় ৪৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভূমিধস হলে কোনও প্রাণহানি যাতে না হয়, এ জন্য পাহাড়ের পাদদেশের লোকজনকে আমরা সরিয়ে দিচ্ছি। যাদের শহরে আত্মীয়-স্বজন আছে তারা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় চলে যাচ্ছেন। অন্যদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘আশ্রয় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের রান্না করা খিচুড়ি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি চিড়া, এক প্যাকেট দিয়াশলাই দেওয়া হয়েছে।’








