ঢাকার পর চট্টগ্রামেও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই এখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ডেঙ্গু পরীক্ষা সাময়িক বন্ধ রেখেছে নগরীর অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিট সংকট কৃত্রিম হতে পারে বলে দাবি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের স্বজনরা।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মূল গেইটে অবস্থিত এপিক হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এই প্রতিষ্ঠানের এক ল্যাব সহকারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংকট। তাই ডেঙ্গু পরীক্ষা সাময়িক বন্ধ আছে।’ গত বুধবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু এপিক হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়; খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিট সংকটের কথা বলে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় হয়তো সত্যি সত্যি সংকট আছে। তবে আবার কিছু কিছু জায়গায় কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা ঠিক করে দেওয়ায় এখন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাভ হচ্ছে না। তাই তারা ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ রাখতে কিট সংকটের কৌশল গ্রহণ করতে পারে। এ তথ্য আমাদের কাছে আসছে। যদি কেউ এমন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গত ছয় মাসে চট্টগ্রামে কী পরিমাণ কিট আমদানি করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে ওষুধ প্রশাসন চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
তবে ওষুধ প্রশাসনের অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু এখনও ভয়াবহ রূপ লাভ করেনি; যাতে এত দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট শেষ হয়ে যাবে। স্বাভাবিক সময়েও ১৫ থেকে ২০ হাজার কিট বাজারে থাকে। এ ছাড়া, গতকাল (১ আগস্ট) ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ৬৫ হাজার পিস কিট আমদানি করেছে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে ১৫ হাজার পিস কিট সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে এপর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৪৮ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ১৩০ জন রোগী। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫৫ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের ডেঙ্গু জোনে ৭৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের আওতায় নগরীর বেসরকারি ও উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৭ জন। এ ছাড়া, সিটি করপোরেশন পরিচালিত হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১১ জন। গত চার দিনে সিটি করপোরেশন পরিচালিত অলংকার মোড়স্থ জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন ৪৭৬ জন। এর মধ্যে ১১ জনকে ডেঙ্গু রোগী বলে শনাক্ত করা হয়।
এসব তথ্য জানিয়ে ওষুধ প্রশাসনের সূত্রটি জানায়, চট্টগ্রামে খুব বেশি মানুষের ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কথা না। আর ডেঙ্গু রোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, কিট সংকটের পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর এপিক হেলথ কেয়ারে ছোট ভাইকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে নিয়ে যান নগরীর খুলশী এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে এপিক হেলথ কেয়ারে ছোট ভাইকে নিয়ে যাই ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ থাকায় পরে পপুলার হাসপাতালে যাই। সেখানেও ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ ছিল। দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকেই কিট না থাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ আছে বলে তারা জানায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে দেওয়ায় এখন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাভ নেই। তাই পরীক্ষা না করার জন্যই তারা কিট সংকটের কৌশল অবলম্বন করেছে।’ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।








