খাগড়াছড়িতে পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশীয় প্রজাতির গরুর চাহিদা বেশি। এবার পশুর দাম বেশি বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। খাগড়াছড়ির হাটবাজারে স্থানীয়দের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও ফেনী থেকেও অনেকে কোরবানির পশু কিনতে আসেন। জেলার ৯ উপজেলায় হাটবারের দিনগুলোতে বসছে গবাদিপশুর হাট। প্রতি হাট থেকে গরু ও ছাগল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
তবে পরিবহন ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজির অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে কোথাও কোনও ধরণের নৈরাজ্যের খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সদরের হাটে গরু কিনতে আসা গফুর মিয়া বলেন, ‘মাঝারি আকারের গরুর দাম অন্য বছরের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি মনে হচ্ছে। বাজেট ছিল ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কেনার। কিন্তু এই বাজেটে পছন্দ মতো গরু পাচ্ছি না।’
আব্দুল আলীম জানান, খাগড়াছড়িতে গরুর ওপর ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। তাই প্রতিবছর চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকে তারা পারিবারিকভাবে গরু কিনতে এই হাটে আসেন। এবারও এসেছেন। তবে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় পথে পথে অনেক টাকা চাঁদা দিতে হয়।
গরু বিক্রেতা সুখেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, ‘নিত্য প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটি দ্রব্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গো-খাদ্যের দামও বেড়েছে। আগে এক বছরে একটি গরুর খাবার ও ওষুধের পেছনে যে টাকা খরচ হতো এখন তার দ্বিগুণ তিনগুণ হচ্ছে। বাধ্য হয়ে খরচ তুলতে আমাদের দাম নিতে হচ্ছে।’
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, জেলার প্রতিটি গবাদি পশুর হাটে পোষাকধারী ও সিভিল পোষাকে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া হাটবাজারের আশপাশে মলমপাটি, ছিনতাইকারী ও দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্যরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবহনের সময় কোনও ধরনের নৈরাজ্য হলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম বলেন, ‘পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রতি হাটের দিন প্রাণীসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল টিম থাকছে। অসুস্থ পশু হাটে না আনতে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পশু বিক্রির টাকা লেনদেনের সময় জাল নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংকের একটি ভ্রাম্যমাণ দলও থাকছে।’








