কুমিল্লার আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে ফারুক নামের এক আসামিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একমাত্র আসামি হাসানের নামে সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত চিচীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১-এর বিচারক মাসুদুর রহমানের কাছে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডল।
হত্যাকাণ্ডের ৪২ দিন পর এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। আসামি হাসান কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ভোজপাড়া গ্রামের শহিদ উল্লাহর ছেলে। নিহত ফারুক কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দি গ্রামের অহিদ উল্লাহর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ডিবি কুমিল্লার ওসি মাইনুদ্দিন খান।
উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিম হত্যা মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের চলতি বছরের ১৫ জুলাই হাজিরার দিন ধার্য ছিল। মামলার আসামিরা আদালতে প্রবেশের সময় ৪নং আসামি ফারুককে ছুরি নিয়ে তাড়া করে ৬নং আসামি হাসান। এ সময় জীবন বাঁচাতে ফারুক বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করেন। সেখানে প্রবেশ করে হাসান টেবিলের ওপর ফেলে ফারুককে উপুর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে। আহত ফারুক ওইদিন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার এএসআই ফিরোজ বাদী হয়ে ফারুকের হত্যাকারী হাসানকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি হাসান ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। মামলাটি পরে তদন্তের জন্য ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডলকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। এ মামলায় আদালতের এপিপি, পেশকার ও অফিস সহকারীসহ ১৪ জনকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
খাস কামরায় বিচারকের সামনে আসামিকে হত্যা
‘আদালতে কে এলো আর গেলো, পুলিশ তা আমলেই নেয় না’








