চট্টগ্রামে পুলিশের ভুলে বিনা অপরাধে ১৩ দিন সাজা খেটেছেন নুরুল আবছার নামে এক যুবক। চেক প্রতারণার একটি মামলার এক আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় গত ১৮ আগস্ট নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) তাকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মো. জহির উদ্দিন। আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর বিশ্বজিৎ বড়ুয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিশ্বজিৎ বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় গত ১৮ আগস্ট ভুলে নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে সাতকানিয়া থানার এএসআই জহিরুল ইসলাম। নুরুল আবছারকে যে মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে সেই মামলার প্রকৃত আসামি সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া গ্রামের হাতিয়ারপুল এলাকার নুরুল কবির আলমের ছেলে নুরুল আবছার (৩৩)। আসামি নুরুল আবছার চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট মিঠাগলি ফজিলা মার্কেটের নিউ মোটর বিতানের মালিক। ২০১৪ সালের জুনে ব্র্যাক ব্যাংকের এক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এ বছরের ২৩ এপ্রিল আদালত আসামিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করেন। একই সময় আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে একই গ্রামের মৃত নুরুন্নবীর ছেলে মো. নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। বিষয়টি রবিবার আমাদের নজরে আসার পর আজ আমরা আদালতকে জানাই। পরে আদালত তাকে মুক্তির আদেশ দেন।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল আসামি নুরুল আবছার ব্র্যাক ব্যাংককে এক লাখ ৩৮ হাজার ১৮১ টাকার চেক দেন। ১৭ এপ্রিল সেই চেক ডিজঅনার হয়। পরে ব্র্যাক ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পক্ষে ওয়াসা শাখার সহযোগী ম্যানেজার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে নুরুল আবছারের নামে আদালতে চেক প্রতারণার এই মামলা দায়ের করেন।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতকানিয়া থানার এস আই জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়ারেন্টের কপি পেয়ে ওই এলাকায় আসামির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং স্থানীয়রা গ্রেফতার করা নুরুল আবছারকে আসামি হিসেবে দেখিয়ে দেন। গ্রেফতারের পর নুরুল আবছার বা তার পরিবার এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তাকে কারাগারে পাঠানোর কয়েক দিন পর আমরা জানতে পারি, গ্রেফতার করা নুরুল আবছার প্রকৃত আসামি নন। প্রকৃত আসামি নুরুল কবির আলমের ছেলে নুরুল আবছার; যিনি বর্তমানে ব্রাজিলে রয়েছেন। আমরা নিরপরাধ নুরুল আবছরের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট জোগাড় করে আজ আদালতে উপস্থাপন করি। আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছেন।’








