স্পিরিট পানে ছয় জনের মৃত্যুর ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে ৬০০ বোতল স্পিরিট জব্দ করা হয়েছে। ডাক্তার সৈয়দ জায়েদ উল্যাহ (৬৫)ও তার ছেলে সৈয়দ মিজানুর রহমান প্রিয়মকে (৩০) আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে কোম্পানীগঞ্জ থেকে ছেলেকে ও ফেনীর দাগনভূইয়া থেকে বাবাকে আটক করা হয়।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে রফিক হোমিও হলে অভিযান চালানো হয়। তখন ৬০০ বোতল স্পিরিট জব্দ ও দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসক হিসেবে জায়েদের কোনও সনদ ছিল না। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সেরও মেয়াদ নেই। তাই দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ স্পিরিট পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, ‘স্পিরিট পানে ছয় ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করা হলে, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, একাধিক সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন বিভিন্ন স্থানে স্পিরিট পান করে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ খবর শুনে তিনি পাঁচ জন নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে রবি লাল রায় এবং নূর নবী মানিকের লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার সকালে রবি লাল রায় এবং নূর নবী মানিকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, তিন জনের দাফন সম্পন্ন হয়। শনিবার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম বেপারি বাড়ির আবদুর রহমানের ছেলে ওমর ফারুক লিটন মারা যান।
নিহতরা হলো- বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশ বেপারি বাড়ির নূর নবী মানিক (৫০), একই এলাকার ক্ষিরত মহাজন বাড়ির অনিল রায়ের ছেলে রবি লাল রায় (৫৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের ফয়েজ আহমদের ছেলে মহিন উদ্দিন (৪০), চর কাঁকড়া ইউয়িনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল খালেক (৫৮), সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মতলব মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন রইসুল হকের ছেলে মো. সবুজ (৬০) ও বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম বেপারি বাড়ির আবদুর রহমানের ছেলে ওমর ফারুক লিটন (৫৫)।
এদিকে আরও পাঁচ জন অসুস্থ হওয়ার খবর শোনা গেলেও একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চর কাঁকড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে মোজাম্মেল হোসেন দুলাল (৫৫)। তিনি ফেনীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, কোম্পানীগঞ্জের নুরনবী মানিক ও রবি লাল রায় নামের দুই জনের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ইউএনও বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ পেলে দাফন হওয়া ব্যক্তিদের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।’








