নির্মাণের পাঁচ বছর পরও খাগড়াছড়ি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পুরোপুরি চালু হয়নি। ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র দু’জন। ফলে জনবল সংকটের কারণে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি কোনও কাজে আসছে না।
দিঘীনালা উপজেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের বৃষ্টিপাত, পাহাড় ধসের পূর্বাভাস, কৃষক ভাইদের কৃষি পূর্বাভাস দেওয়া,আদ্রতাসহ আবহওায়ার ডাটা ৩ ঘণ্টা পরপর ঢাকায় আব্হ্ওায়া অফিসে পাঠানো। এ লক্ষ্যে ২০০৯ সালে আবহাওয়া কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ২০১৪ সালে। আবহওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে ৫ বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি কেন্দ্রটি। ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র দু’জন। আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকরি চলে গেছে প্রায় দুই মাস। বর্তমানে বিনা বেতনে কাজ করছেন একাধিক চর্তুথ শ্রেণির কর্মচারী। যন্ত্রপাতির সঠিক পরিচর্যা না করায় মরিচা ধরেছে এবং নষ্ট হচ্ছে। শ্যাওলা জমে গেছে অফিস প্রাঙ্গণসহ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের একাধিক স্থানে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যক্ষেক শুবোধি চাকমা বলেন, ‘আবহওয়ার ডাটা নিয়মিত কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠানোর কথা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে তা পাঠাতে পারছি না। দ্রুত সময়ে জনবল নিয়োগ দিলে আমরা কেন্দ্রটি চালু করতে পারবো।’
তিনি আরও জানান, ২০১৪ সালে আবহাওয়া ভবনের দু’টি পাকা ভবন নির্মাণসহ আবহওয়া পরিমাপক যন্ত্র বসানো হয়। এরপর কেবল উচ্চ পর্যবেক্ষক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। দুই কর্মকর্তা কর্মচারী দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব না। জনবল না থাকায় অযত্নে পড়ে আছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ভবনের আসবাবপত্র। ইতিমধ্যে সোলার প্যানেল চুরি হয়ে গেছে।
কেন্দ্রের উচ্চমান পর্যবেক্ষক ধর্মজ্যোতি চাকমা জানান, আবহাওয়া কেন্দ্রটি চালু হলে অতি ভারী বর্ষণ শৈত্য প্রবাহ,পাহাড় ধসের পূর্বাভাস, কৃষক ভাইদের কৃষি পূর্বাভাস দেওয়া যাবে। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে আবহাওয়া কেন্দ্রটি চালু হয়নি। চলতি বছরে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু হবে।
দ্রুত আবহাওয়া কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু করতে এবং লোকবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ।
খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, আবহাওয়া কেন্দ্রটি শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জনবল নিয়োগসহ সব সমস্যা নিরসনের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তিনি চিঠি পাঠাবেন।







