চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ৪২ টাকায় আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০-১১০ টাকায় বিক্রির দায়ে চারটি আদতদারকে একলাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (৩ নভেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম।
অভিযানে অছি উদ্দিন ট্রেডার্সকে ৪০ হাজার টাকা, মেসার্স খাতুনগঞ্জ ট্রেডিংকে ৫০ হাজার টাকা, সৌমিক ট্রেডার্সকে ২০ হাজার টাকা এবং বেঙ্গল ট্রেডার্সকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজারমূল্য মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আজ চতুর্থ দফায় খাতুনগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে শতাধিক আড়ত পরিদর্শন করে কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর প্রমাণ পেয়েছি। অভিযানে দেখা যায়, মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজ ৪২ টাকা দরে আমদানি হয়েছে তা ৯০-১১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় চারটি আড়তকে মোট একলাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে এখন সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের মজুদ আছে মেসার্স খাতুনগঞ্জ ট্রেডিংয়ে। এই আড়তের সামনেও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী ট্রাকে পেঁয়াজভর্তি অবস্থায় দেখা যায়। এসব ট্রাকে আড়ত থেকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১১০ টাকা দরে বিক্রি করে বোঝাই করা হচ্ছিল। কিন্তু অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা ওই দোকানে প্রবেশ করলে মূল্য তালিকায় দেখতে পান, মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম লেখা আছে ৬০-৬৫ টাকা। দোকানে সংরক্ষিত কাগজপত্র পরীক্ষা করে মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামে কারসাজি ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়ায় মেসার্স খাতুনগঞ্জ ট্রেডিংকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সৌমিক ট্রেডার্স ও বেঙ্গল ট্রেডার্সকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানিমূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি করায় ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, অছি উদ্দিন ট্রেডার্স তাদের নিজেদের আড়তে মূল্যতালিকায় মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম ৬০-৭০ টাকা লিখলেও সিলেটগামী ট্রাকের চালানে মূল্য লিখেছে ১১০ টাকা। প্রতারণামূলকভাবে মূল্য তালিকা থেকে অধিক দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার দায়ে অছি উদ্দিন ট্রেডার্সকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’ অভিযানে র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন বলেও জানান তিনি।








