ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইয়াবাসহ মহিলা কাউন্সিলরকে আটকের ঘটনার অধিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সিংগারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূইয়া। তার দাবি, অধিক তদন্ত হলে এ ঘটনার প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে।
এর আগে গত বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে সিংগারবিল ইউনিয়ন পরিষদের (৪,৫,৬) নং ওয়ার্ডের বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কাকলী আক্তারকে (৩৫) ইয়াবাসহ আটক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। কাকলী জেলার বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল গ্রামের বাসিন্দা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সার্কেল অফিসের পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিওিতে খবর পাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ব্রিজের ওপর একটি সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি করা হয়। সময় ওই মহিলার গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে তল্লাশি করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১ হাজার ৮৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য অধিদফতর নিশ্চিত হন তিনি সিংগারবিল ইউনিয়ন পরিষদের (৪,৫,৬) নং ওয়ার্ডের বর্তমান সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে সিংগারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘কাকলী সস্পর্কে অতীতে কোনও খারাপ অভিযোগ শুনিনি। তিনি আগে যদি মাদক ব্যবসা করতেন তাহলে পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার কানে কোনও না কোনোভাবে আসতো।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটির সভা ছিল। আমি কাকলীকে দুপুরে সভায় অনুপস্থিত দেখে ফোন দেই। তখন সে আমাকে জানায়, তার কোনও এক নিকট স্বজন মারা যাওয়ায় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন। পরে সন্ধ্যার পর খবর পাই তিনি ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে আটক আছেন। কীভাবে কী হলো তা বুঝতে পারছি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান মনিরুল বলেন, ‘আর্থিকভাবে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান কাউন্সিলর কাকলী। তার বাবা সুরুজ মিয়া পরিষদের মেম্বার ছিলেন। তার একাধিক ভাই প্রবাসে থাকেন। ডালিম নামে প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিজমাসহ বেশ কয়েকটি মামলা চলছিল তার। আগামী শনিবার এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ওই বৈঠকের তারিখ আমি নিজেই করেছিলাম। এর মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলো।’
বিষয়টি অধিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।








