সুপেয় পানি নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষ। তবে এবার আর তাদের দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। কম টাকায় নিম্নবিত্তের মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসা তাদের জন্য নিয়ে আসছে সুপেয় পানির ওয়াটার বুথ। এই এটিএম ওয়াটার বুথেই প্রতি লিটার পানি মিলবে মাত্র ৬০ পয়সায়। এটিএম বুথে কার্ড প্রবেশ করলে পাওয়া যাবে বিশুদ্ধ পানি।
বুধবার (১ জানুয়ারি) এ ধরনের একটি এটিএম ওয়াটার বুথ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নগরবাসীকে কম দামে সহজে সুপেয় পানি সরবরাহ করার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এই প্রকল্পের অধীনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি এটিএম ওয়াটার বুথ বসানো হবে। এসব বুথ থেকে নগরবাসী কম দামে এবং খুব সহজে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ড্রিংক ওয়েল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের চুক্তি হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে নগরীর চারটি এলাকায় প্রথমে চারটি এটিএম বুথ বসানো হচ্ছে। এরপর এগুলোর সফলতার ওপর নির্ভর করে অপর এটিএম বুথগুলো বসানো হবে।’
মো. আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চারটির মধ্যে ইতোমধ্যে একটি এটিএম ওয়াটার বুথ নগরীর খুলশী এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ এটিএম ওয়াটার বুথটির উদ্বোধন করবেন। বাকি তিনটি ওয়াটার বুথের একটি ওয়াসার প্রধান কার্যালয়ের সামনে, অন্যটি আগ্রাবাদ ওয়াসা অফিসের সামনে এবং অপরটি বহদ্দারহাটে (ওয়াসা বোস্টারের সামনে) বসানো হবে।’
আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়াটার বুথ বসানোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ওয়াসা জায়গা, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ করবে। বুথে পানি শোধনাগার যন্ত্র বসানো থেকে শুরু করে অপারেশন সব কাজ ড্রিংক ওয়েল নামের ওই প্রতিষ্ঠান করবে।’
প্রথম ওয়াটার বুথটি নগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত খুলশীর এক নম্বর সড়কের মুখে বসানো হয়েছে। ওই বুথে গিয়ে দেখা যায়, পানির এই এটিএম বুথটি দেখতে হুবহু ব্যাংকের এটিএম বুথের মতো। সাজ-সজ্জাও অনেকটা সেরকম। বুথটির পেছনের অংশে পানি বিশুদ্ধ করার যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এই বুথ থেকে যে কেউ কার্ডের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করতে পারবেন। রিচার্জেবল ওই এটিএম কার্ডটি মেশিনে দিলেই পানি পড়ে। আবার যখন কার্ডটি বের করা হবে, তখন পানি পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ড্রিংক ওয়েলের প্রধান নির্বাহী মিনহাজ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি ছবি এবং ২০০ টাকা জমা দিয়ে গ্রাহকরা এই কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। ব্যাংকের এটিএম কার্ডের মতো এই কার্ডেও পাসওয়ার্ড থাকবে। কার্ডে ৫০ টাকা থেকে যেকোনও পরিমাণ টাকা রিচার্জ করা যাবে। ওই কার্ড মেশিনে ঢুকালে পানি পড়বে। কার্ড বের করে ফেললে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথে থাকা আমাদের প্রতিনিধির কাছে এটিএম কার্ড পাওয়া যাবে। রিচার্জেবল এই কার্ড দিয়ে সবসময় পানি পাওয়া যাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মিনহাজ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস যুক্তরাষ্ট্রে। আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় সুপেয় পানি নিয়ে কাজ করি। মূলত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমরা কাজ করি। ঢাকা, ভারতের আসামসহ আমাদের কয়েকটি প্রকল্প চলমান আছে। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম শহরেও কাজ শুরু করেছি।’








