শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের চাতলপাড় ডিগ্রি কলেজ মাঠে বসানো হয় সাপ্তাহিক গরু-ছাগলের হাট। এ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, অভিবাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ বিল্লাহ বলেন, ‘সপ্তাহের প্রতি বুধবার কলেজ মাঠে গরুর হাট বসে। বৃহস্পতিবার গরু, ছাগলের মল মূত্রের গন্ধে ক্লাশ করা যায় না। তাই বৃহস্পতিবার অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছে করেই ক্লাসে আসেন না।’
আরেক শিক্ষার্থী সঞ্জয় রায় বলেন, ‘এই ইউনিয়নটি হাওর বেষ্টিত। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজর পরেনি বিষয়টি। কলেজে গরুর হাট নিয়ে বন্ধুরা বিদ্রুপ করে। হাটের কারণে নিয়মিত খেলাধুলাও করা যায় না।’
কলেজের অধ্যক্ষ ওমর আলী বলেন, ‘সাপ্তাহিক গরুর হাটটি বন্ধের জন্যে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলেজের পক্ষ থেকে রেজুলেশন আকারে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
হাটের ইজারাদার এবং চাতলপাড় ইউনিয় পরিষদের এক নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (মেম্বার) বিনয় রায় জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে মাঠটি ইজারা নিয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে হাট বসছে। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা দিয়ে ১ বছরের জন্য মাঠটি ইজারা নেন তারা। তবে শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
চাতল পাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ জানান, আগে হাটটি কলেজের পাশে স্কুলের মাঠে হতো। কলেজ মাঠে গরুর হাট কোনও ভাবেই কাম্যনয়। যতটুকু জানতে পেরেছি হাটটি বন্ধের ব্যাপারে কলেজ কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। আমরা চাই অন্যত্র স্থানান্তর করা হউক।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী জানান, তিনি কয়েকমাস হলো কাজে যোগ দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে চাতলপাড় কলেজ পরিদর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কলেজ মাঠে গরু হাট বন্ধসহ অন্যত্র নিয়ে যাবার উদ্যোগ নিবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনের মাঠে গরুর হাট কাম্য নয়। বিষয়টি জানা মাত্র সেটি বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গরু বাজার বসতে বাঁধা নেই। সেটা কলেজ মাঠে নয় অন্য কোথাও বসতে হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রায় ১ একর জমির ওপর ১৯৯১ সালে হাওর অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬ শতাধিক।








