নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শিবিরের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত পিয়াস বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মো. নজরুল ইসলাম ওরফে কানা নজরুল (২৫) নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর তিনটা ৪০ মিনিটে উপজেলার আমানুল্যাপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ হাইস্কুল মাঠে এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে পুলিশ। নিহত নজরুল ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি ছিল।
পুলিশ জানায়, এ সময় ছয় জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল,তিন রাউন্ড গুলি, একটি ধামা, তিনটি ছোরা ও পাঁচটি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত নজরুল অভিরামপুর গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে। সে রাকিব হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, রবিবার (১ মার্চ) রাতে আমানুল্যাপুর ইউনিয়নের পলোয়ান পুল বাজারে ছাত্রশিবির কর্মীরা হামলা চালালে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন ও হাবিব নামে দুই জন গুলিবিদ্ধ হন। তারা রনি, মনু ও রায়হান নামে তিন জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাবিক হোসেনের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রাকিবের মায়ের দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়। এ সময় আমানুল্যাপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ মাঠে শিবির ক্যাডার নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে শিবির ক্যাডাররা পিছু হঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নজরুলকে উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি বলেন, ‘‘নিহত নজরুল রাকিব হোসেন হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’’








