বাংলাদেশিকে হত্যার অভিযোগ ভারতীয় দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
০৭ মার্চ ২০২০, ২০:২৮আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২০, ১৬:৪৭

ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনতা ও বিজিবি সদস্যরা কুমিল্লা সীমান্তে আনোয়ার হোসেন আনু মিয়া (৪৫) নামে এক বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কামরুল ও ফারুক নামে ভারতীয় দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ২টায় জেলার আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরের হানকিরজলায় ৭৮ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনু মিয়া হানকিরজলা এলাকার মৃত ছেতু মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবার ও বিজিবি জানায়, হানকিরজলা এলাকায় আনু মিয়া মুদি ও চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। ভারতের মাদক কারবারি কামরুলের কাছে তার দোকানের বকেয়া ৪৮০ টাকা পাওনা ছিল। শনিবার দুপুরে সীমান্তের ৭৮ নম্বর পিলারের কাছে দাঁড়িয়ে আনু মিয়াকে চারটি দধির কাপ নিয়ে যেতে বলে কামরুল। আনু মিয়া দধির কাপ নিয়ে গেলে কামরুল পরে টাকা দেবে বলে জানায়। এ সময় আনু মিয়া ও কামরুল বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কামরুল (২৮) ও তার সহযোগী ফারুক মিয়া (৩০) আনু মিয়াকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। আনু মিয়ার মাথায় জোরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে (ভারত সীমান্তে) তার মৃত্যু হয়।

বিজিবি আরও জানায়, পেটানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় কামরুল ও ফারুক। খবর পেয়ে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনসি নগর এলাকাটি ভারতের সোনামুড়া থানা এলাকায় হওয়ায় সোনামুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের লাশ থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন পাঁচথুবী ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল। তিনি বলেন, ‘কামরুল ভারতীয় নাগরিক হলেও তার মা এবং বোন বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাস করে বলে শুনেছি। হত্যাকারী কামরুল এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও মাদক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় বাংলাদেশি এক যুবকের হাত কেটে দিয়েছে বলে জেনেছি।’

সীমান্তের ওপারের মাদক কারবারিদের এ চক্রটি প্রায়ই এই এলাকার মানুষের ওপর নির্যাতন চালায় বলে স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি