ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের (পিটিআই) ইন্সট্রাক্টর দেবব্রত বড়ুয়া। শনিবার (৭ মার্চ) তিনি চট্টগ্রাম নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় নিজ বাসায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।তিনি বর্তমানে নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
দেবব্রত পটিয়ার পিটিআইয়ের ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) পদে কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার তুলাবাড়িয়ায়।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে দেবব্রত তার ফেসবুক ওয়ালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি ‘খোলা চিঠি’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাসে দেন। এতে তার চার সহকর্মীর বিরুদ্ধে পিটিআই’র নারী প্রশিক্ষণার্থীদের ধর্ষণসহ নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, পিটিআইয়ে কর্মরত ইন্সট্রাক্টর (শারীরিক শিক্ষা) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) জসীম উদ্দিন, ইন্সট্রাক্টর (কম্পিউটার সায়েন্স) রবিউল ইসলাম, ইন্সট্রাক্টর (চারু ও কারুকলা) সবুজ কান্তি আচার্য্য নানা কৌশলে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে তাদেরকে পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার কথা বলে যৌন সম্পর্ক করে। এছাড়া নানাভাবে নির্যাতন করতেন। ফারুক মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এই স্ট্যাটাস দেওয়ার এক ঘণ্টা পর ‘বিবেকের আদালতের রায়’ শিরোনামে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যেহেতু আসামিদের বিরদ্ধে আনা সব অভিযোগ সত্য বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে, তাই আসামিদের গুরুতর সব অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হইলো।’
এই স্ট্যাটাসের তিন ঘণ্টা পর তিনি আরও তিনটি স্ট্যাটাস দেন। ‘উইলনামা’ নামে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে তার মৃত্যুর জন্য তার পরিবারের সদস্যরা দায়ী না বলে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। সর্বশেষ ‘আমার ফেসবুক তৎপরতা চিরদিনের জন্য স্থগিত’ করলাম শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন।
তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্সট্রাক্টর ফারুক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি কী কারণে এটি করেছেন, সেটি তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। তার সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা ছিল না।’
তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করতেই হয়তো তিনি এ কাজটি করেছেন। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। কারণ কেউ যদি আমাদের দ্বারা নির্যাতিত হতো তাহলে তারা অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতো। তিনি নিজেও চাইলে অভিযোগ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি।’
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদেরকে ছোট করতে দেবব্রত বড়ুয়া এ কাজটি করেছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলায় বিষয়টি তদন্ত করে দেবব্রতের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন।
এ সর্ম্পকে পিটিআইয়ের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট তপন কুমার দাশ বলেন, ‘দেবব্রত বড়ুয়া কেন এ কাজটি করেছেন আমাদের মাথায় আসছে না। কোনও মেয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি। দেবব্রত নিজেও বিষয়টি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও কারণে হয়তো তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সেজন্যই হয়তো তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে আপনারা তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কোনও মেয়ে প্রশিক্ষণার্থী যদি অভিযোগ করে তাহলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবো।’
তপন কুমার জানান, দেবব্রত নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার স্ত্রী জানিয়েছেন তিনি এখন কথা বলতে পারছেন।
এ সর্ম্পকে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের একটি খবর আমরা শুনেছি। খবর পেয়ে আমরা ওই ইনস্টিটিউটে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। মেয়েদের সঙ্গেও কথা বলেছি। চার ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে দেবব্রত বড়ুয়ার তোলা অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রাথমিকভাবে কোনও সত্যতা পাইনি। তবে কোনও মেয়ে যদি থানায় অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।’








