কক্সবাজারে সেই বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি আনছুর আলম (৪০) কে চকরিয়া থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এর আগে মহেশখালী থানার শাপলাপুর ইউনিয়নের সাইটমারা এলাকা থেকে বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় তাকে গ্রেফতার করে। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানান।
বুধবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেসনোটে বলা হয়, ওই বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনাটি নজরে আসা মাত্রই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছেলের দায়ের করা মামলা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে পুলিশ তিন আসামিকে গ্রেফতার করলেও প্রধান অভিযুক্ত আনছুর আলম পালাতক ছিল। তবে তাকে ধরতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানার শাপলাপুর ইউনিয়নের সাইটমারা এলাকা থেকে আনছুর আলমকে বুধবার (১০ জন) বেলা ১১টায় গ্রেফতার করে পুলিশ।
আনছুর আলম (৩৫) চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার মৃত মনির উল্লাহর ছেলে এবং ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।
ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওই বৃদ্ধকে নির্যাতনের মুলহোতা আনছুর আলম। নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে আনছুর আলমকে প্রধান আসামি করে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দিলে তা মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এর পর থেকে আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ মহেশখালীর সাইটমারা থেকে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও জবরদখলসহ নানা অভিযোগে চকরিয়া থানায় এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এর আগে গত ৩ জুন চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোহাম্মদ বেলাল, কায়ছার উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফারুক নামে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।'
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষে ইজিবাইকে (টমটম) বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি থেমে নামিয়ে ফাকা জায়গায় নিয়ে বৃদ্ধ নুরুল আলমকে (৭২) বিবস্ত্র করে মারধর করে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনছুর আলম। মারধরের সময় বৃদ্ধর লুঙ্গি ও গেঞ্জি টেনে হিঁচড়ে ছিড়ে ফেলার পাশাপাশি গালিগালাজ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন যুবক মারধরের দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এ ঘটনার ভিডিও চিত্র ২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর গত ৩১ মে রাতে নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধের ছেলে আশরাফ হোসাইন বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা আনছুর আলমসহ ৮ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন...
কক্সবাজারে বৃদ্ধকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার
কক্সবাজারে বয়োবৃদ্ধকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল








