ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সরকারি খালের পানি প্রবাহে বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সৃজন সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ মুনাব্বির আহম্মেদ তননকে (২৫) হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (৯ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
নিহত তনন নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা সৈয়দবাড়ির মৃত সৈয়দ শিব্বির আহম্মেদের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছিলেন। তিনি হরিপুর ইউনিয়নের প্রভাতি ইসলামী কিন্ডারগার্ডেন নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, সোমবার দুপুরে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর আলিয়ারা গ্রামের সৈয়দবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় তনন গুরুতর আহত হন। আহতাবস্থায় প্রথমে তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাতে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় আহত হন আরও ৩ জন। আহতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ মজিবুর রহমানের ছেলে ফাইজুল (৩৫), মৃত সৈয়দ আবু তাহেরের ছেলে সুমন (৩৪) ও নিহতের ভাই তন্ময় (১৭)।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে তাদের বাড়ির পাশের সরকারি খালের পানি কেন আটকে দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে গ্রামের ওসমানের সঙ্গে তননের বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার দুপুরে ওসমান মিয়ার পক্ষের মজনু মিয়া ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে তননের ওপর অতর্কিতে হামলা করেন। এ সময় তননকে বাঁচাতে গিয়ে সুমনসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
সোমবার বিকালে আহত তননসহ ৪ জনকে প্রথমে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়। পরে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় তননকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার পথে রাতে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে মারা যান তনন।
নিহত তননের শিক্ষক মহিবুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তনন তরুণ কবি ও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সে সৃজন সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিল। তনন একুশে সৃজন ও দশ দিগন্তের সম্পাদক ও সৃজন চিন্তা নামে একটি সাহিত্য ম্যাগাজিনের সম্পাদকের দায়িত্বে সুনাম অর্জন করেছিল। প্রায় এক দশক ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ছিল সে।’ তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমরা একজন তরুণ কবিকে হারালাম।’ যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে, এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, ‘হরিপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনার খবর পেয়েছি। নিহতের লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’








