ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরচারতলা গ্রামে কোহিনুর খানম নিতু (৩০) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে। বুধবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কোহিনুর একই এলাকার আবুল হোসেন মিয়ার মেয়ে। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ভোরে লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায় জুয়েলের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন জুয়েলের বাবা আবু চান মিয়া (৬৮), মা রহিমা বেগম (৫৫), বড় ভাইয়ের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৯), ছোটভাই কামরুল ইসলাম (২৮) ও কামরুলের স্ত্রী আর্জিনা বেগম (২৪)।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে আদালতে গিয়ে বিয়ে করেন কোহিনুর ও জুয়েল। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নতুন করে বিনিয়োগ করার জন্য দুই মাস আগে কোহিনূরের কাছে দুই লাখ টাকা চায় জুয়েল। তবে কোহিনুর টাকা দিতে অপারগতা জানায়। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জুয়েল বঁটি ও দা দিয়ে কোহিনুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে কম্বল দিয়ে লাশ ঢেকে রেখে পালিয়ে যায়। রাতেই পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
কোহিনুরের বাবা মো. আবুল হোসেন জানান, বুধবার রাতেও তার সঙ্গে কোহিনুরের দেখা হয়। তবে সে সময় কোনও সমস্যার কথা সে জানায়নি। তিনি তার মেয়ে হত্যাকারীর গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের পাশ থেকে রক্তমাখা বঁটি ও দা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার স্বামী এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘাতককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








