নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের তথ্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আহতের ঘটনায় চারজনকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
তারা হলেন-উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহাজাহান রানা, পৌর বিএনপির সভাপতি ও চাটখিল পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম ও রামনারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভুট্টু।
মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সাঈদীন নাঁহী এর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত শনিবার তথ্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপির একাংশ (ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন গ্রুপ)। এই উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের হোসেন। সভা শুরু হওয়ার পর বিএনপির অপর গ্রুপের (সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন গ্রুপ) লোকজন সভাস্থলে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিএনপি কার্যালয়ের অর্ধশতাধিক চেয়ার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের ১৪-১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শনিবার রাতে বিএনপির ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৪০/১৫০
জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মালায় বিএনপির চার নেতা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ওই চার নেতাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।








