কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের নাতনি রেহা কবিরের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খন্দকার আবুল খায়েরসহ খালাস পেয়েছেন সব আসামি। মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তারা। গত ১৯ ডিসেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক চন্দন কান্তি নাথ এই রায় দেন।
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন, নিজাম উদ্দিন, খোকা মিয়া, আব্দুল ওহাব পাঠান, মো. জালাল খন্দকার ও মো. জাহাঙ্গীর আলম। আর খন্দকার আবুল খায়ের কয়েকদিন আগে জামিনে বের হয়েছেন। তবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে বাদী রেহা কবিরের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের প্রার্থনা করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলায় বাদী উল্লেখ করেন গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় তিনি দশপাড়াস্থ খুনি মোশতাকের মাজার জিয়ারত করতে যান। এ সময় বিরোধের জেরে তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। এতে তিনিসহ কয়েকজন আহত হন। এসব অভিযোগেই তিনি মামলা করেন। এই মামলায় বিগত ২ ডিসেম্বর কুমিল্লার নিম্ন আদালতে স্বেচ্ছায় জামিন চাইতে গেলে খন্দকার আবুল খায়েরসহ ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় গত ১০ ডিসেম্বর জামিনে মুক্তিলাভ করেন খন্দকার আবুল খায়ের। এরইমধ্যে মামলার বিষয়ে তদন্ত করে ১৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেন দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম খাঁন।
এতে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী রেহা কবিরের দায়ের করা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তিনি সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, একটি মহল সামাজিকভাবে হেয় করতে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ। তারাও জানিয়েছেন, এসব সাজানো মামলার নেপথ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু হত্যায় অভিযুক্ত খুনি মোশতাকের আপন ভাতিজা খন্দকার নাছিরুল কবির। চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের বিশ্লেষণ শেষে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির দায়ে বাদী রেহা কবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আকুতি ভুক্তভোগীদের। মিথ্যা মামলায় কারাগারে যাওয়া খন্দকার আবুল খায়ের মুক্ত হওয়ার পর জানান, বর্তমান সরকারের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তাকেসহ এলাকার নিরীহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। যা ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট। আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ায় তিনি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং হয়রানিকারীদের শাস্তি চান।








