অভিনব কায়দায় কাগজের ভেতর লুকিয়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট আমদানি করা একটি কন্টেইনার জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কায়িক পরীক্ষার সময় কন্টেইনারটিতে ঘোষণা এ বহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়। পরে কাস্টমস হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম পণ্য চালানটি আটক করে।
কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার (এআইআর শাখা) রেজাউল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চালানটিতে শর্ত সাপেক্ষে আমদানিযোগ্য পণ্য সিগারেট আমদানি করে প্রায় ১১ কোটি টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করেছিল বলে তিনি জানান।
রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান করিম ট্রেডিং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এ৪ সাইজের কাগজ ঘোষণায় এক কন্টেইনার পণ্য আমদানি করে। পণ্যচালানটি খালাসের জন্য নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সুরমা এন্টারপ্রাইজ গত ৪ ফেব্রুয়ারি কাস্টম হাউজে বিল অব এন্ট্রি (নং-সি-২২১১৮৬) দাখিল করে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রফতানিকারক, তৈরি দেশ প্রভৃতি বিশ্লেষণ করে করে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিসটেমে বিল অব এন্ট্রিটি লক করে রাখে। পরবর্তী সময়ে গতকাল (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিয়ম অনুযায়ী পণ্য পরীক্ষা শুরু করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের চৌকস এআইআর টিম। কন্টেইনারের সামনের দিকে রাখা সুসজ্জিত কাগজ দেখিয়ে কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। কন্টেইনারের ভেতরের পণ্য বের করার জন্য সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিকে অনুরোধ করলে তারা গড়িমসি শুরু করে এবং একপর্যায়ে কায়িক পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য পাল্টা অনুরোধ করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রাতেই পণ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয় এআইআর শাখা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কন্টেইনার থেকে সব পণ্য বের করে আনার পর দেখা যায়, ৪৮টি পলিথিনে মোড়ানো প্যালেটের প্রতিটিতে ৪৮টি কার্টুন রয়েছে। এর উপরের স্তরের ১২টি কার্টুনে শুধুই কাগজ এবং পরবর্তী ৩৬ কার্টুন খুলে উপরে এক রিম এ৪ সাইজের কাগজ পাওয়া যায় এবং কাগজের নিচে আলাদা অন্য একটি কার্টুনে পাওয়া যায় অভিনব কায়দায় লুকানো সিগারেট। উল্লখ্য যে, কন্টেইনারের প্রথম আটটি প্যালেটে ছিল শুধুই কাগজ এবং নবম থেকে পরবর্তী ৪৮তম প্যালেটে পাওয়া যায় লুকানো সিগারেট। রাত আনুমানিক ২টায় শেষ হওয়া পরীক্ষায় ২৩ হাজার কার্টুন (৪৬ লাখ শলাকা) ইজি এবং মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়। এছাড়া এ৪ সাইজের কাগজ পাওয়া যায় ১৪ টন।’









