ছাদ থেকে লাফিয়ে কারাগারের দেয়াল পার হয় রুবেল: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৯ মার্চ ২০২১, ২৩:৫২আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২১, ২৩:৫২

নিখোঁজ কয়েদি ফরহাদ হোসেন রুবেল নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে কারাগারের দেয়াল পার হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। রুবেলকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপির) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নির্মাণাধীন চারতলা থেকে লাফ দিয়ে রুবেল প্রথমে কারা অভ্যন্তরের ২২ ফুট উচ্চতার দেয়ালটির বাইরে পড়ে। এরপর সেখান থেকে কারাগারের আরেকটি ১০ ফুট উচ্চতার দেয়াল অনায়াসেই টপকে পালিয়ে নরসিংদী চলে যায়।’

এর আগে একই দিন সকালে নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার আদিয়াবাদ শেরপুর কান্দাপাড়া চরাঞ্চল এলাকায় ফুফুর বাসা থেকে  রুবেলকে গ্রেফতার করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে চট্টগ্রামে আনা হয়। তাকে প্রথমেই নিয়ে যাওয়া হয় সিএমপির উপ-কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার পায়ে প্ল্যাস্টার করার পর সন্ধ্যায় কোতয়ালি থানায় মিডিয়ার সামনে হাজির করার করা হয়।

পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ‘৬ মার্চ নিয়মিত হাজতি গণনার সময় রুবেল নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় থানায় মামলা দায়েরের পর কমিশনার মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে তাকে গ্রেফতারে পাঁচটি টিম মাঠে কাজ শুরু করে। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকাল ৯টায় তাকে তার ফুফুর বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, ৬ মার্চ ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কর্ণফুলী ভবনের পঞ্চম তলার ১৫ নম্বর কক্ষ থেকে বের হয় রুবেল। সেখান থেকে ভবনের মূল গেট খোলা থাকার সুযোগে বের হয়ে যায়। বের হয়েই মাঠে থাকা পানির ট্যাংক থেকে পানি নিয়ে মুখে পানি দেয়। এরপর কারাগারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ফাঁসির মঞ্চের পাশে নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের দিকে যায়। সেই ভবনটির মূল দরজা বন্ধ থাকায় জানালার গ্রিল ধরে চারতলার ছাদে ওঠে। সেখান থেকে ৫টা ২৯ মিনিটে ব্যান্ডেল রোডের মা ভবনের পাশ দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় চারতলার ছাদ থেকে লাফ দেয় রুবেল।

‘ওই ভবন থেকে কারাগারের প্রধান দেয়ালের দূরত্ব ২২ ফুট। লাফ দেওয়ার সময় সে ওই ২২ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করে। বিষয়টি আমাদের কাছে প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে, এটি সত্য। চারতলা থেকে লাফ দিয়ে কারাগারের সীমানা প্রাচীর পার হওয়ার পর কারাগারের আরেকটি প্রাথমিক দেয়াল রয়েছে, সেখানের ভেতরের কোনায় একটি নিরাপত্তা চৌকি রয়েছে। ওই দেয়ালের উচ্চতা অন্তত ১০ ফুট এবং তার ওপর কাঁটা তারের বেড়াও রয়েছে। ২২ ফুট উচ্চতার মূল দেয়াল থেকে ১০ ফুট উচ্চতার দেয়ালের দূরত্বও অন্তত ১৮ ফুট। রুবেল চার তলা থেকে ঠিক ওই স্থানের মাঝ বরাবর পড়ে। এরপর কাঁটাতারের দেয়ালটির ফাঁক গলে টপকে যায়। সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম ট্রেন স্টেশন থেকে নরসিংদীতে ফুফুর বাড়ি চলে যায়। ভাঙা পা নিয়ে রুবেল কীভাবে নরসিংদী গেলো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। সে এখন এখন কিছুটা অসুস্থ, সুস্থ হলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, নিখোঁজ কয়েদি ফরহাদ হোসেন রুবেল কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের পঞ্চম তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাদারবাড়ি রেলবিট এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন হাজতের পরোয়ানামূলে রুবেলকে কারাগারে পাঠান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ৬ মার্চ সকালে নিয়মিত বন্দি গণনার সময় হত্যা মামলার রুবেলকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এরপর খোঁজ নিয়ে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে এ ঘটনায় একই দিন সন্ধ্যায় নগরীর কোতয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর রাতে একই ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। পরদিন রবিবার এই ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. রফিফুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার মুহাম্মদ আবু সাদ্দাতকে প্রত্যাহার করে কারা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি একই ঘটনায় কারারক্ষী নাজিম উদ্দিন ও সহকারী কারারক্ষী ইউনুস মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এই ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি কারা অধিদফতর থেকে, অন্যটি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়। খুলনা বিভাগীয় উপ-কারাপরিদর্শক ছগির মিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন ও বান্দরবান জেল সুপার মোহাম্মদ ফোরকান ওয়াহিদকে সদস্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমনি আক্তারকে আহ্বায়ক করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে নগর পুলিশের এডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. মাজহারুল ইসলামকে সদস্য করা হয়।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম