নোয়াখালীর কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট আইনজীবী, বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুক্রবার বিকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর গ্রামে বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।
শুক্রবার সকালে ঢাকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে তাকে কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে আসা হবে। বাদ জুম্মা কবিরহাট সরকারি কলেজ মাঠ, বিকাল ৪টায় বসুরহাট সরকারি কলেজ মাঠ এবং ৫টা ৩০ মিনিটে মানিকপুরের নিজ বাড়ির দরজায় জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
মওদুদ আহমদের ব্যাক্তিগত সহকারী মমিনুর রহমান সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
জানা যায়, মৃত্যুর আগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাধিস্থ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে মওদুদ আহমদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশের পাশাপাশি তার নির্বাচনি এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সব ধর্মমতের মানুষ শোকাহত হয়ে পড়েন। অনেকে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস নিয়ে তার রুহের মাগফেরাত করেন। প্রিয় এই নেতার মৃত্যু স্তব্ধ করে দিয়েছে কোম্পানীগঞ্জবাসীকে। কোম্পানীগঞ্জ থেকেই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মওদুদ আহমদের গ্রামের বাড়ির বাসভবন হোয়াইট হাউজে কেউ থাকেন না। মওদুদ আহমদ গ্রামের বাড়িতে এলে ওই বাসভবনে অবস্থান করতেন। তার পুরাতন বাড়িতে চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইয়েরা বসবাস করেন। নেতার মৃত্যুর সংবাদে অনেক নেতা-কর্মী তাদের বাড়িতে ছুটে গেছেন। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন ভালো মানুষ ছিলেন মওদুদ আহমদ। তার এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির উদ্যোগে জেলা শহর মাইজদীতে মওদুদ আহমদের জানাজা সম্পন্ন করার জন্য এক প্রস্তুতিসভার আয়োজন করা হয়। সভায় নেতা-কর্মীদের স্বতঃর্স্ফূতভাবে জানাজায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, বেগমগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বরকত উল্যা বুলু, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহাজাহান, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দর বিএসসি, জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন, ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু গভীর শোক প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার এক শোক বার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অপরদিকে জেলা জামায়াতের আমিরসহ স্থানীয় নেতারাও মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এসময় তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
কাদের মির্জার তিন দিনের শোক ঘোষণা:
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে বসুরহাট পৌরসভার পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন পৌর মেয়র, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই আবদুল কাদের মির্জা। বুধবার রাতে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কাদের মির্জা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। উনার মুত্যুতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করা হলো। তাই বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার বসুরহাট বাজারের সকল ব্যবসায়ীকে কালো পতাকা উত্তোলন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।









