ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৮ বছরের শিশু কাশফিয়া ওরফে শেফা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসাইনের আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা জানিয়েছেন, স্বর্ণালংকারের জন্য কাশফিয়াকে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দি দেওয়া আসামি রিমি আক্তার সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার আব্দুল মতিনের মেয়ে এবং হোসেন মিয়া পূর্ব পাড়ার শাহবাজ আলীর ছেলে।
শিশু কাশফিয়া সরাইল উপজেলা সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের ফার্নিচার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদেরের মেয়ে। বুধবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় সৈয়দটুলা গ্রামের নোয়াহাটি এলাকার একটি ঝোঁপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জবানবন্দিতে তারা জানান, মূলত কাশফিয়ার কানে থাকা স্বর্ণের দুল নেওয়ার জন্যই পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। দুল নেওয়ার সময় শিশুটি চিৎকার করলে তাকে প্রথমে গলা চেপে ও পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দুই আসামি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। পরে একটি ঝোঁপে নিয়ে লাশ ফেলে দেয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত রিমি আক্তার খুব স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি গিয়ে গোসল করে ঘুমিয়ে পড়েন।’
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে কাশফিয়া নিখোঁজ হয়। একদিন পর বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির কাছের ঝোঁপে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা আবদুল কাদির বাদী হয়ে থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রিমি আক্তার, হোসেন মিয়া, জামিল ও সুশীল দত্তকে গ্রেফতার করে।
সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবির হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকাল থেকে কাশফিয়ার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার খোঁজে গ্রামে মাইকিংও করে শিশুটির পরিবার। শিশুটির সঙ্গে রিমির ভালো সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রিমির দেওয়া তথ্যমতেই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে হোসেন ও জামালকে আটক করা হয়।









