রেলপথে চলাচলে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নানা কারণে ট্রেনের বিলম্ব বা অব্যবস্থাপনার কাহিনী বেশ পুরনো। যাত্রীদের ‘নতুন’ দুর্ভোগের নাম ট্রেনের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। যে ধোঁয়ায় ‘ভূত’ সাজতে হয় যাত্রীদের।
মজার বিষয় হচ্ছে, মুখে থাকা কালি দেখে একজন আরেকজনকে নিয়ে হাসছিলেন। পরক্ষণেই নিজের মুখেও কালির আছে বুঝতে পেরে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। কয়েকজন যাত্রী অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে মাঝপথেই ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প চিন্তা করেন।
রবিবার (২১ মার্চ) রাতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী নোয়াখালী এক্সপ্রেস (১২ ডাউন) ট্রেনে এমন ঘটনা ঘটে।
ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় কয়েকশ যাত্রীর মুখমণ্ডলসহ পুরো শরীর কালো হয়ে যায়। এর মধ্যে প্রায় ১০ জন যাত্রীর অবস্থা এমন দাড়ায় যে তাদের দেখতে ভূত বলে চমকে উঠাও স্বাভাবিক। অতিরিক্ত ধোঁয়ায় অনেকেরই শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, ট্রেনটি যে ইঞ্জিন নিয়ে চলাচল করে সেটি ৪০ বছরের বেশি পুরনো। যে কারণে এতে দীর্ঘদিন ধরেই ত্রুটি বিরাজ করছে। মূলত ইঞ্জিনের ইনজেকটরে মুখ বড় হয়ে গেলে তেল মিসইউজ হয়ে ধোঁয়ার সঙ্গে বের হয়। নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনেও এ ধরণের কিছু একটা হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যায়।
অপর একটি সূত্র জানায়,ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ ট্রেনটি আসতে ৪৫ গ্যালন ইঞ্জিন তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ত্রুটি থাকায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত আসতে ৮০ গ্যালনের মতো তেল লাগে। একইভাবে আখাউড়া থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত যেতেও অতিরিক্ত তেলের প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিনটিতে সমস্যা বিরাজ করছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদেরকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ট্রেনের একাধিক যাত্রী জানান, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসার পর থেকেই ট্রেনের ইঞ্জিন দিয়ে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হতে থাকে। ধোঁয়া যাত্রীদের বগিতেও ঢুকছিল। এতে ট্রেনের বগিগুলোতে অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ঠিক পিছনের বগিতে ধোঁয়ার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। তবে আলোর স্বল্পতার কারণে যাত্রীদের মুখমণ্ডলসহ শরীর কালো হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রথমে বুঝা যায় নি। ট্রেন থেকে নেমে আলোতে আসার পর একজন আরেকজনকে দেখে বিষয়টি ‘আবিষ্কার’ করেন যাত্রীরা।
ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) মো. হাবিবুল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইঞ্জিন থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হয়েই এমন হয়।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের লোকোশেড ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন আজ সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকার কারণে এমন হতে পারে। তবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। ট্রেনটির চালকই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।









