বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে তুরস্ক। শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে তুরস্কের বিমানবাহিনীর একটি বিমান ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রাম নিয়ে আসে। দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘তুরস্ক বিমানবাহিনীর সি ১৩০ বিমানে রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ টন ত্রাণ নিয়ে আসা হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো যাবে। রবিবার (২৮ মার্চ) বিমানটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।’ ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে তাঁবু রয়েছে বলে তিনি জানান।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর বেশ কয়েক দফায় তুরস্ক তাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে। শুরুর দিকে তুরস্ক ছাড়াও আজারবাইজান, মরক্কো, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান ও আরব আমিরাত থেকে ত্রাণ এসেছে বাংলাদেশে। কার্গো বিমানে করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসা হয়।
রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে প্রথম ত্রাণ সহায়তা পাঠায় মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান। ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই দুই দেশ থেকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায় বাংলাদেশে। এর মধ্যে চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ ১৪ আইটেমের ১২ টন পণ্য পাঠায় মালয়েশিয়া সরকার। আর সিল্ক ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের বিশেষ কার্গো বিমানে করে একশ’ টন ত্রাণ পাঠায় আজারবাইজান সরকার। এরপর ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের জন্য দুই দফায় ৫৩ টন ত্রাণ পাঠায় ভারত। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় এসব ত্রাণবাহী বিমান। ১৩ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া থেকেও ৩৪ টন ত্রাণ নিয়ে চারটি বিমান অবতরণ করে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ১৪ টন ত্রাণ পাঠায় মরক্কো সরকার। মরক্কোর পাঠানো ত্রাণের মধ্যে ছিল তাঁবু, কম্বল, ওষুধ, গুঁড়ো দুধ, ম্যাট্রেস ও চার টন চাল। ১৫ সেপ্টেম্বর ৪০ টন ত্রাণ আসে ইরান থেকে। ইরান সরকারের পাঠানো ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল বিছানা, তাঁবু, কম্বল, বিস্কুট, শুকনো খাবার ও ওষুধ।
এর বাইরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৮ লাখ ৩০ হাজার আমিরাতি দিরহাম দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা রোহিঙ্গাদের খাবার, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছে।









