করোনাকালে খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেলেদের। এর মাঝে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদের বিরুদ্ধে।
জেলেরা জানান, সোমবার সকালে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত ৫৬ কেজি চালের ৫০ কেজি পেয়েছেন জেলেরা। বাকি ছয় কেজি করে কম দিয়েছেন চেয়ারম্যান। ৮৩৯ জন জেলেকে ছয় কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দুই নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ‘জেলে পরিবারে দুর্দিন যাচ্ছিল। এমন সময় সরকারি চাল পেয়ে খুশি হয়েছি। কিন্তু ৫৬ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ৫০ কেজি পেয়েছি। অনেক দিন ধরে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম করে আসছেন চেয়ারম্যান।’
সেন্টমার্টিন ইউপির সদস্য ফরিদ আলম বলেন, ‘আমার গ্রামে ৭০ জন জেলে। চেয়ারম্যান সবাইকে ৫০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। ছয় কেজি করে কম দিয়েছেন। উপজেলা থেকে দ্বীপে চাল আনতে কিছু টাকা খরচ হওয়ার কথা বলেছেন চেয়ারম্যান।’
তবে চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেছেন, ‘উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ৫০ কেজি আতপ এবং ছয় কেজি করে সেদ্ধ চাল প্রত্যেক জেলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাল বিতরণকালে অনেক জেলে ছয় কেজি সেদ্ধ চাল নেননি। সেগুলো আমরা রেখে দিয়েছি। ইচ্ছা করে কাউকে চাল কম দিইনি।’
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, টেকনাফ উপজেলার এক পৌরসভা ও ছয় ইউনিয়নে ১০ হাজার ৬৮৩ জেলের জন্য প্রথম কিস্তিতে ভিজিএফের ৫৯৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক জেলে ৫৬ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। ট্যাগ অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে এসব চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু তা না করে বিতরণ করেছেন চেয়ারম্যানরা।
টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেন্টমাটিন দ্বীপের ৮৩৯ জন জেলের জন্য ৫৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলেদের চাল কম দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’
জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘চাল কম দেওয়ায় বিষয়টি শুনে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবু এ ঘটনা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরকারের বরাদ্দকৃত চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’









