নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেলের গুলিতে বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক সদস্য হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১টায় বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল সংলগ্ন আদর্শ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শাহজাহান সাজু (৩৫) বসুরহাট পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আহসান উল্লাহর ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য এবং কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ তার ভাগনে মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুর সক্রিয় অনুসারী।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু বলেন, ‘আজ দুপুরে শাহজাহান সাজু মওদুদ স্কুলের পাশে আদর্শ এলাকায় এশিয়ান ফার্নিচার নামে একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় কাদের মির্জার অনুসারী শহীদুল্লাহ রাসেল ওরফে কেচ্ছা রাসেল, জিসান, পিচ্চি মাসুদ ও মানিকসহ সাত থেকে আট জন দুটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে আকস্মিক মওদুদ স্কুল এলাকায় এসে সাজুকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা করে এবং মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে তার বাঁ পা ও দুই হাত ভেঙে যায়। পরে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সে গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
মঞ্জু আরও বলেন, ‘অস্ত্রধারী কেচ্ছা রাসেল বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার অনুসারী ক্যাডারদের মধ্যে অন্যতম। কাদের মির্জা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও কেচ্ছা রাসেলসহ তার অনুসারী একদল অস্ত্রধারী বসুরহাট পৌরসভার তৃতীয় তলায় বসবাস করে আসছে। এর আগে কাদের মির্জার নির্দেশে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় বসুরহাট পৌরসভা থেকে ফেসবুক লাইভে এসে আমাকে ও আমার খালাতো ভাই ফখরুল ইসলাম রাহাতসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দেয় কেচ্ছা রাসেল। হুমকির দুই দিন পর ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের ওপর হামলা করে তাকেও আহত করে।’
বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থাকায় এ বিষয়ে তার কোনও বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এদিকে, কাদের মির্জার ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘মেয়র আবদুল কাদের মির্জা চিকিৎসার জন্য আমেরিকা গেছেন। তিনি নিজে খুব অসুস্থ। সকালে ডায়াবেটিস নিল হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তার কোনও লোকজন জড়িত নয়।’
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘সাজুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়াও তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘মওদুদ স্কুল এলাকায় শাহজাহান সাজু নামে একজন ছররা গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শুনেছি। তবে, পুলিশ যাওয়ার আগেই তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









