বছরের বিভিন্ন সময় বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী বিষয়ে নানা তথ্য চাওয়া হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একই ধরনের তথ্য বছরে দুইবারও দিতে হয়। প্রতিবারই এসব তথ্য হাতে-কলমে তৈরি করতে হয়। শ্রেণি কার্যক্রম বাদ দিয়ে শিক্ষকদের ব্যস্ত থাকতে হয় এসব কাজ নিয়েই। আবার হাতে-কলমে তৈরি রিপোর্টে থেকে যায় বিভিন্ন ভুল। এতে অনেক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকেও বঞ্চিত হন। এ অবস্থায় শিক্ষকদের সময় ও শ্রম বাঁচাতে এবং নির্ভুল তথ্য উপস্থাপনার জন্য একটি সফটওয়্যার বানানোর কথা খেয়াল আসে। করোনাকালে সফটওয়্যারটি বাস্তবে রূপ নেয়।
এভাবেই ‘বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ডাটাবেজ সফটওয়্যার’ তৈরির পেছনের গল্পটা জানান উদ্ভাবক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ভূমিরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের শিক্ষক সাইফুল্লাহ সরোয়ার।
সফটওয়্যার তৈরির কারণে সাইফুল্লাহ সরোয়ার চলতি বছর (২০২১ সাল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে দেশসেরা উদ্ভাবক নির্বাচিত হয়েছেন।
সাইফুল্লাহ সরোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার স্কুল আমার মোবাইলে’ এই ভাবনা থেকে সফটওয়্যারটিতে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সব কিছুর সংযোজন করেছি। আমি চেয়েছি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজগুলো ম্যানুয়ালি করার চেয়ে যদি সফটওয়্যারের মাধ্যমে করতে পারি তাহলে কাজগুলো নির্ভুলভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে পারবো। সফটওয়্যারের মাধ্যমে এক ক্লিকেই মিটবে অনেক সমাধান।
সফটওয়্যার তৈরির শুরুর গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সফটওয়্যার তৈরির আগে উপবৃত্তির তথ্য নিয়ে কাজ করতে হতো। ২০০৯ সালে এক্সেলের কাজগুলো নিজের তৈরি একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে করতাম। এরপর ২০১৫ সালে যখন উপবৃত্তির টাকা শিওর ক্যাশে দেওয়া হতো তখন এক্সেলের একটি নিজস্ব সফটওয়্যার দিয়ে কাজ করি। এরপর ২০২০ সালে করোনা আসার পর আমি বিশেষ ডাটাবেজ সফটওয়্যারির কাজ শুরু করি। ইউটিউব, গুগল থেকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে এটি তৈরি করি। এখন এটি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবহার হচ্ছে।’
একটি প্রতিষ্ঠান এই সফটওয়্যার দিয়ে কী কাজ করতে পারবেন, জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ সরোয়ার বলেন, সফটওয়্যারটির নাম দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা। এটি দিয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সব কাজ করা যাবে। ভর্তি রেজিস্ট্রার তৈরি, ফলাফল রেজিস্ট্রার, নম্বর ফর্দ তৈরি, উপবৃত্তি রেজিস্ট্রার, শিশু শুমারি, অনলাইন ক্লাস, শিক্ষার্থীদের দৈনিক উপস্থিতি সংরক্ষণসহ সব কাজই এই সফটওয়্যার দিয়ে করা যাবে। এর বাইরে সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরাও কিছু কাজ করতে পারবে। খুদে ডাক্তার কার্যক্রম, স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনের মনোনয়নপত্র, ছবিযুক্ত ব্যালট পেপার, ভোটার তালিকা এই সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করা যাবে বলে জানান তিনি।
সফটওয়্যারটির আরও উন্নয়ন করে বিদ্যালয় ভিত্তিক দাফতরিক সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান শিক্ষক সাইফুল্লাহ সরোয়ার।









