লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে তথ্য গোপন করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে মোহাম্মদ আবুল কালামের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমান কাউন্সিলর। নির্বাচনি হলফনামায় নিজ নামের সম্পত্তির বিষয়ে কোনও তথ্য উপস্থাপন করেননি। এ নিয়ে পৌর এলাকায় চলছে আলোচনা।
অন্যদিকে, আবুল কালামের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এ ঘটনায় রবিবার (০৭ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক ও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য গোপনের অভিযোগে আবুল কালামের মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেন।
আপিল বিবরণী থেকে জানা যায়, পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালামের নামে ৩৭৯৮ নম্বর দলিলে ৩১ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। যার বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। তিনিসহ পাঁচ ভাইয়ের নামে ৩২৮১/১৩ নম্বর দলিলে তার ১.১০ শতাংশ সম্পত্তি (দোকানঘর) রয়েছে। এর মধ্যে কালামের মালিকানায় রয়েছে ১২ লাখ টাকার সম্পত্তি। এ ছাড়া তার জমাকৃত লাখ লাখ টাকার বিষয় তিনি হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেননি। এ জন্য তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
জানা গেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে মেয়র পদে ছয় এবং কাউন্সিলর পদে ৮১ ও সংরক্ষিত নারী আসনে ২০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে হলফনামায় তথ্য গোপন করেও ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম বৈধতা পেয়েছেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে হলফনামায় তথ্য গোপন করায় নয় জন ও ঋণখেলাপির অভিযোগে পাঁচ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
হলফনামায় তথ্য গোপনের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক বলেন, কোনও প্রার্থী হলফনামায় তথ্য গোপন করতে পারেন না। বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কিছু নিয়ম রয়েছে।
তিনি বলেন, মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখের পর তিন দিনের সময় দেওয়া হয় আপিলের জন্য। তিন দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অভিযুক্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিয়মে জেলা প্রশাসনের আপিল বিভাগে অভিযোগ দিতে পারেন।
হলফনামায় তথ্য গোপনের বিষয়ে আবুল কালাম বলেন, বাবার দেওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে বাজারে দোকান কিনেছি। তবে আগের নির্বাচনের হলফনামায় সম্পত্তির তথ্য না দেওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা হয়নি। তাই এবারও দিইনি। বিষয়টি নিয়ে এমন ঝামেলা হবে জানা ছিল না।









