টিকটক ভিডিও করা নিয়ে বিতর্কে কয়েকজন যুবকের নির্যাতন সইতে না পেরে ফেনীর সোনাগাজীতে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পশ্চিম চর দরবেশ এলাকায় নিজ বাড়ির ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইমরান হোসেন (১৮) নামের ওই যুবক একই এলাকার মো. মাঈন উদ্দিনের ছেলে। ইমরান নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। পরিবার বলছে, তার লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে মৃত্যুর কারণ ও নির্যাতনকারী আট জনের নাম লিখে গেছেন ইমরান।
মৃত্যুর পর ইমরানের বিছানার নিচ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেই চিরকুটের বরাত দিয়ে ইমরানের পরিবার জানায়, কয়েক দিন আগে উপজেলার পশ্চিম চর দরবেশ ও আদর্শগ্রাম এলাকায় মুছাপুর সড়কে গিয়ে ইমরান একটি টিকটক ভিডিও বানান। ভিডিও করার সময় ভুলবশত স্থানীয় এক মেয়ের ছবি উঠে যায়। সেই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আট যুবক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে ইমরান ভুল স্বীকার করে তাদের কাছে ক্ষমা চান। এরপরও ওই যুবকরা তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করেন।
চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য পলান উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন আগে টিকটক করার সময় স্থানীয় এক মেয়ের ছবি ভিডিওতে থাকা নিয়ে ওই মেয়ের ভাইসহ সাত-আট জন ইমরানকে মারধর করেছেন। ইমরান তাদের কাছে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে আবারও ইমরানকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তাদের নির্যাতন ও অপমান সইতে না পেরে ইমরান আত্মহত্যা করেছেন।
ইমরানের বাবা মাঈন উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে শ্রমিক। রাজমিস্ত্রির কাজ করে খায়। অপমান সইতে না পেরেই সে আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে আমি শিগগির মামলা করব।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ওই ছেলের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর পর তার বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ‘সুইসাইড নোটে’ উল্লেখ করা ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যাদের নাম উল্লেখ আছে, তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ।









