চট্টগ্রাম নগরের ঝাউতলা রেলক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে তিন গাড়ির সংঘর্ষের জন্য বাসচালক শহিদুল আলম ও গেটম্যান আশরাফুল আলমগীর ভূঁইয়াকে দায়ী করেছে রেলওয়ের তদন্ত কমিটি। গত ৯ ডিসেম্বর এই প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। পাঁচ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন। বাসচালক ও গেটম্যান গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে। গেটম্যানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, গত ৪ ডিসেম্বর ঝাউতলা রেলগেটে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পোর সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার পরদিন তদন্তের কাজ শুরু করেন। ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তে দুর্ঘটনার জন্য বাসচালক শহিদুল আলমকে বেশি দায়ী করেছেন। কারণ সে দ্রুত বেগে গাড়ি চালিয়ে অন্য তিনটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। বাসচালক যদি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালাতো, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতো না। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় গেটম্যানের অবহেলা ছিল। সে সড়কের এক পাশে ব্যারিয়ার ফেলেনি। কমিটি এ জন্য গেটম্যান আশরাফুল আলমগীর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি নেওয়ার সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কয়েকটি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
উল্লেখ্য, ৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ঝাউতলা রেলগেটে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পোর সংঘর্ষের ঘটনায় তিন জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্য মনির হোসেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাতরাজ উদ্দিন ও প্রকৌশলী সৈয়দ বাহা উদ্দিন। আহত হন সাত জন।
ঘটনার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দাফতরিক আদেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের গঠন করা কমিটির প্রধান ছিল সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে। কমিটির অপর চার সদস্যরা হলেন-সহকারী কমান্ডেন্ট সত্যজিত দাশ, সহকারী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন, সহকারী যান্ত্রিক প্রকৌশলী বজলুর রহমান ও সহকারী সার্জন শিবু নাথ।









