চট্টগ্রাম নগরীর মাঝিরঘাট এলাকায় খাল খননের সময় হেলে পড়া তিন তলা ভবনটির অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) রাত পৌন ৮টার দিকে সিডিএর অথরাইজ অফিসার-২ মোহাম্মদ হাসান বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, খালের পাশে হেলে পড়া তিন তলা ভবনের অনুমোদন ছিল না। তারা অনুমোদন না নিয়ে ভবনটি খালের বাঁধের ওপর নির্মাণ করেছেন। সিডিএ আপাতত ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছে। ওই ভবন থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনের কিছু অংশ অপসারণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভবনটি উচ্ছেদ করা হবে।
সকালে সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) লে. কর্নেল মো. শাহ আলী ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শনে যান। এ সময় সিডিএর স্টেট অফিসার ও অথরাইজ অফিসার-২ মোহাম্মদ হাসানও ছিলেন।
ওই সময় প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী বলেন, হেলে পড়া ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি ভবন খালের দেয়ালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবৈধ ভবন উচ্ছেদ করতে সিডিএকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে সিডিএর খাল খননকাজ চলমান থাকবে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামস বলেন, সিডিএ ভবন অনুমোদন দেওয়ার আগে শর্ত দেয়, খাল ও নালার ১৫ ফুট দূরে ভবন নির্মাণ করতে হবে। তারা তো খালের বাঁধের ওপর ভবনটি নির্মাণ করেছে। আমরা শিগগিরই এসব ভবন উচ্ছেদে অভিযান চালাবো।
হেলে পড়া ভবনের মালিক স্বপন দাশ বলেন, সিডিএর খাল খননকাজের কারণে আমাদের ভবন হেলে পড়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি কাজ বন্ধ রাখতে। না হয় নিরাপত্তা বেষ্টনী বাড়িয়ে দিয়ে কাজ করতে। এতদিন একটু হেলে পড়েছিল। সোমবার ৫ থেকে ৭ ফুট ভবনটি হেলে পড়ায় আমরা ভবন থেকে সরে যাই। ভবনে আমাদের সব জিনিসপত্র রয়েছে। এখন সিডিএ বলছে, আমরা নাকি অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করেছি। আমাদের কাছে সিডিএর অনুমোদনের কাগজপত্র রয়েছে।
সোমবার রাতে সদরঘাট থানাধীন মাঝিরঘাট স্ট্যান্ড রোড সংলগ্ন পার্বতী ফকিরপাড়া এলাকায় গুলজার খাল সংলগ্ন তিন তলা একটি ভবন হেলে পড়ে। এতে পাশের একটি মন্দির ও ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। হেলে পড়া ভবন থেকে গতকাল রাতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা যেকোনও সময় ভেঙে খালে পড়ে যেতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।









