নোয়াখালীর আঞ্চলিক গানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেমের ৭৫তম জন্মজয়ন্তীতে দুই সংগীত ব্যক্তিত্বকে ‘মোহাম্মদ হাশেম পদক’ দেওয়া হবে। সোমবার (১০ জানুয়ারি) দিবসটি উদযাপনে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে ‘হাশেম উৎসব’ আয়োজন করেছে মোহাম্মদ হাশেম ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মুস্তফা মনওয়ার সুজন বলেন, উৎসব ঘিরে বসবে শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ গণমানুষের মিলন মেলা। দিনব্যাপী চলবে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। উৎসবে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হাসান মতিউর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক মহাপরিচালক ও ছায়ানটের শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র শীলের হাতে ‘মোহাম্মদ হাশেম পদক’ তুলে দেওয়া হবে। এছাড়া শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড মনোনীত ১৩ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হবে।
উৎসব সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে হাশেম উৎসব উদ্বোধন করবেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। সকাল ১০টায় শুরু হবে মোহাম্মদ হাশেমের গানের প্রতিযোগিতা। দুপুর দেড়টায় শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে দুপুর ২টায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে ‘গণমানুষের শিল্পী মোহাম্মদ হাশেম’ শিরোনামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দিদার-উল আলম। এতে সভাপতিত্ব করবেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানছুরুল হক খসরু।
বিকাল ৫টায় একই মঞ্চে শুরু হবে সংগীতানুষ্ঠান। এতে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করবেন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা। রাত সাড়ে ৮টায় হাশেমের সৃষ্টি ও বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর সাজ্জাদ রাহমান ও সানজিদা সুলতানা নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া উৎসব উপলক্ষ্যে একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হবে।
নোয়াখালীর প্রধান সংগীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী, রয়্যাল ডিস্ট্রিক ভাই/ হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’-সহ হাজারো গানের গীতিকার ও সুরকার মোহাম্মদ হাশেমের জন্ম ১৯৪৭ সালের ১০ জানুয়ারি। নোয়াখালী সদরের চরমটুয়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামে তার বাড়ি। মোহাম্মদ হাশেম ২০২০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মাইজদী শহরের বড় দিঘির উত্তর পাড়ে কোর্ট মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।









