সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক চলছে। সোমবার (১০ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০ টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এ যুক্তিতর্ক চলবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, রবিবার এই মামলার যুক্তিতর্কের প্রথম দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা, অ্যাডভোকেট মোজাফফর আহমদ, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দীন প্রমুখ আদালতে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। পরে আসামি এপিবিএনের বরখাস্ত হওয়া তিন সদস্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং এই মামলায় আসামি হওয়া পুলিশের তিন সোর্সের পক্ষে অ্যাডভোকেট শামসুল আলম তাদের যুক্তিতর্ক শুরু করেন। আজ অপরাপর আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন।
এরআগে, সকাল ৯টার দিকে উক্ত মামলার আসামি ওসি প্রদীপসহ এ মামলার ১৫ জনকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, সর্বশেষ ৮ দফায় ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মোট ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেছিল আদালত। একইসঙ্গে ৯ জানুয়ারি থেকে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তিতর্ক চলবে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।









