আবদুর রশিদ (৭০)। ভোট দিতে দুই মাইল হেঁটে এসেছেন কেন্দ্রে। তবু ভোট দেওয়ার ভাগ্য তার হয়নি৷ তাই কেন্দ্রের এক কোণে বসে কান্না করছেন। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) এমন চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
আবদুর রশিদ বলেন, আমার বাড়ি চন্দনাইল পূর্ব পাড়া। আমি শ্বাসকষ্টের রোগী। দুই মাইল হাইট্টা আইয়াও ভোট দিতারছি না। সংগ্রামের আগে জন্ম। ৭০ এর নির্বাচনে ভোট দেওন শুরু করছি। আগে কেমনে দিতাম আর এক্কন কেমনে দেয়, কিচ্ছু বুঝতারিনা। অফিসার কইছে আমার আতের (হাত) দাগ মুইচ্ছা গেছে তাই ভোট দিতারমু না। আমি এক্কন কি করতাম? আমি কেমনে ভোট দিয়াম। এত কষ্ট কইরা আইয়াও ভোট দিতে পাইরাম না কিয়ারে?
আবদুর রশিদের সঙ্গে থাকা বন্ধু সাবেক সরকারি কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র সাহা(৭৫) বলেন, সে শ্বাসকষ্টের রোগী। গাড়ি ছিল না, তাই আমি তাকে নিয়ে দুই মাইল হেঁটে এসেছি। দু’জনে একসঙ্গে ভোট দেবো বলে। কিন্তু আমি ভোট দিতে পেরেছি, সে দিতে পারেনি। সে জমিতে কাজ করতো বলে হয়তো তার হাতের আঙুলের ছাপ মুছে গেছে। সে এত কষ্ট করে এসেও ভোট দিতে না পেরে কান্না করছে। আমি তাকে কিছুতেই কেন্দ্র থেকে নিতে পারছি না।
চন্দনাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। একজন ভোট দিতে পারেনি। আমি উনাকে বলেছি দুপুরের পর ভোটারের ভিড় কমলে কেন্দ্রে এলে আমি ভোট দিতে সাহায্য করবো।
তিনি আরও জানান, ওই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ২৪৬৭টি। পুরুষ ভোটার ১২৩৩ ও মহিলা ভোট১২৩৪টি। এখনও পর্যন্ত ভোটার পরিস্থিতি ভালো।
উল্লেখ্য, ষষ্ঠ ধাপে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।









