নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের মৃত্যুর এক বছরেও মামলার কোনও অগ্রগতি নেই। দাখিল হয়নি হত্যা মামলার চার্জশিট। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের স্বজনেরা। তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত মুজাক্কিরের বড়ভাই মুহাম্মদ নুরুদ্দিন মুহাদ্দিস বলেন, ছোটভাই হারানোর বেদনা প্রধানমন্ত্রীও বোঝেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে শেখ রাসেলসহ পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। যে হারায় সে বুঝে হারানোর যন্ত্রণা।
মুজাক্কিরের হত্যা মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মুজাক্কির যদি আপনাদের ভাই বা ছেলে হতো তাহলে আপনারা কি করতেন? আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না। তাই কারো প্ররোচণায় প্ররোচিত না হয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনেন।
মুজাক্কিরের ভগ্নিপতি আবদুছ ছাত্তার বলেন, এক বছরেও আলোচিত এ মামলার অগ্রগতি না হওয়া নোয়াখালীর প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার ব্যর্থতা। জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগও এ দায় এড়াতে পারে না। আমরা চাই এর সঠিক বিচার। মুজাক্কিরের হত্যার সঙ্গে জড়িত কেউ যেন পার না পায় সেটা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মুজাক্কিরের বাবা মাওলানা নুরুল হুদা ওরফে মো. নোয়াব আলী, মা মমতাজ বেগম, মেঝোভাই মো. ফখরুদ্দিন, ভগ্নিপতি আবু সাঈদ, বড়বোন জান্নাতুল ফেরদাউস, নুর নাহার, গুলশান আরা ও গুলনাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।
মুজাক্কির হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলায় এ পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে দুই জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকালে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশির হাট তরকারি বাজারের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর ছোটভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিক মুজাক্কির গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ১০ টা ৪৪ মিনিটে সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।









