ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে হামলার মুখে পড়া বাংলাদেশের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিতে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাবিক সৈয়দ আসিফুল ইসলাম। তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। ছেলেকে নিরাপদে দেশে আনতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সৈয়দ আসিফুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও পারভীন আক্তারের একমাত্র ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেন আসিফুল। পরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় তুরস্কে যান তিনি।
ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে জাহাজটিকে নোঙর করা হয়। ওই দিনই জাহাজে উঠেন আসিফুল। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইউক্রেনের ওপর হামলা চালায় রাশিয়া।
আসিফুলের মা পারভীন আক্তার বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ আসিফুল ইসলাম জাহাজে ওঠে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে জাহাজে কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল লোড করা হয়। একইদিন বিকালে পরিবারকে ফোন করে যুদ্ধ শুরুর কথা জানায় আসিফুল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা আতঙ্কিত অবস্থায় আছি। পরিবারের সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, ছেলে যেন নিরাপদে থাকে।
পারভীন আক্তার আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকাল ৩টায় আসিফুলের ফোন পেয়ে আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। আমার সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলেছে আসিফুল। জানিয়েছে কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের উদ্ধার করবে। আমার ছেলেটি যেন নিরাপদে দেশে ফিরে এই প্রার্থনা করি। সেই সঙ্গে আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, জাহাজে থাকা সবাইকে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনুন।
আসিফুলের বাবা সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, রাশিয়ার সৈনিকরা ইউক্রেনের নদী ও সাগরের মোহনা ব্লক করে ফেলেছে। বুধবার রাশিয়ার সৈনিকরা ইউক্রেনের বন্দরে থাকা এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের ছাদের রকেট হামলা চালায়। এতে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। ওই সময় আমার ছেলে ১০ ফুট দূরে ছিল। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, সেখানের পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) ওই জাহাজের পাহারায় থাকুক। সম্পদের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। নাবিকরা জাহাজে থাকতে চায় না। তারা জাহাজ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের কাছে ছেলেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।
নুরুল ইসলাম বলেন, ছেলে জানিয়েছে যেভাবেই হোক আজ তারা জাহাজ থেকে বের হয়ে যাবে। পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসবে। তারা সবাই দ্রুত দেশে ফিরে আসুক, এটাই আমাদের চাওয়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাবিক আসিফুল ইসলাম বিবাহিত। তিনি ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকার তানিয়া চৌধুরীকে বিয়ে করেন। আসিফুলের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।









