লক্ষ্মীপুরে গরম পানি ছুড়ে আলমগীর হোসেন নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী চা দোকানির শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দোকানের পাওনা টাকা চাইলে জহির আহম্মেদ রিপন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটায়। রবিবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাজিদিঘীরপাড় বাজারে ঘটনাটি ঘটে।
আহত আলমগীর রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সাইচা গ্রামের বাসিন্দা ও কাজিরদিঘীরপাড় বাজারের চা দোকানি।
অভিযুক্ত রিপন ভূঁইয়া সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড হামছাদী গ্রামের একরাম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির তোফায়েল আহমেদ লেদু ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটান বরে অভিযোগ রয়েছে। তবে তার কোনও পদ-পদবি নেই।
আহত চা দোকানি আলমগীর ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় ১৮ বছর ধরে আলমগীর কাজিরদিঘীরপাড় বাজারে চা দোকানের ব্যবসা করছেন। কয়েক বছর ধরে রিপন ভূঁইয়া প্রায়ই দোকানে এসে চা-সিগারেটসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে টাকা দেন না। টাকা চাইলে পরে দেবে বলে চলে যায়। মাঝে মধ্যে দলবল নিয়ে এসে খেয়ে চলে যায়। এরপর থেকে আর তার বাকির হিসেব রাখা হয় না। রবিবার সন্ধ্যায় দোকানে এসে রিপন চা-সিগারেট নেন। চা-সিগারেট পান করা শেষে তিনি চলে যাচ্ছিলেন। এসময় তাকে ডেকে আলমগীর টাকা চান। কিন্তু রিপন টাকা দেবে না বলে জানায়। এতে পরবর্তীতে তাকে আলমগীর দোকানে না আসার জন্য বলেন। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে গ্যাসের চুলার ওপর থাকা গরম পানিসহ চায়ের কেটলি তিনি আলমগীরের শরীরে ছুড়ে মারে। দ্বিতীয় কেটলি ছুঁড়ে মারার সময় আলমগীর তা হাত দিয়ে ধরে ফেলেন। এতে তার হাত, হাটু, পিঠ, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
বক্তব্য জানতে রিপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জয়নাল আবেদিন বলেন, গরম পানিতে আলমগীরের হাত, হাটু, পিঠ ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









