বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার যদি দাম কমাতে না পারে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে না পারে অনতিবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। আর তা না হলে, এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য আগামী দিনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কোনও স্বৈরাচার নিজ থেকে যায় না। তাদেরকে বিদায় করে দিতে হয়।’
বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টায় কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘মওদুদ আহমদ ১৫টি বই লিখেছেন। আরও দুইটি বই প্রকাশিত হওয়ার বাকি আছে। তিনি বাস্তব ভিত্তিতে দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র নিয়ে এসব বই পত্র লিখেছেন। তাকে এ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তার বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদ করেছে। এ সরকার তার বিরুদ্ধে একটার পর একটা মামলা দিয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ওনার মতো মানুষকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তারা গায়ের জোরের সরকার। ২০০৮ সালে মইন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দিনের অবৈধ সরকার তাদেরকে (আওয়ামী লীগ) গায়ের জোরে বসিয়ে দিয়েছে। ২০১৪ সালে জনগণ তাদের বয়কট করেছে। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করেছে। তারা চিন্তা করছে, ভবিষ্যতে ইভিএমের মাধ্যমে সব নিয়ে যাবে। আর এ দেশে এমন নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। এ সরকারকে হটানো ছাড়া জনগণ ভোট দিতে পারে, এমন নির্বাচন আশা করতে পারেন না।’
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গুম, খুন ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজকে কিন্তু বিশ্ব এ সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। যার জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানকে আমেরিকা থেকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এর জন্য দায়ী আজকে যারা গায়ের জোরে সরকারে টিকে থাকার জন্য এ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে তারা।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ এবং সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।









