নোয়াখালীতে র্যাংগস ইলেকট্রনিকস শোরুম থেকে দামি ব্র্যান্ডের নামে নকল পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন আবদুল্লাহ আল মুকিত নামে এক ব্যক্তি। মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন তিনি। আবদুল্লাহ আল মুকিত জেলার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধনে তিনিসহ স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী অংশ নেন।
একই দিন নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ নম্বর আমলি আদালতে একটি মামলা করেন আবদুল্লাহ আল মুকিত। মামলায় র্যাংগস ইলেকট্রনিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জে এম একরাম হোসেনসহ ছয় জনকে আসামি করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন র্যাংগস ইলেকট্রনিকসের জিএম (বিক্রয় ও বিপণন) জানে আলম, সহকারী ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. ওমর ফারুক, নোয়াখালী জোনের ম্যানেজার ফরিদ উদ্দিন ইমাম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. শামীম হোসেন ও র্যাংগস অনুমোদিত পরিবেশক ‘হোসেন ইলেকট্রনিকসের’ পরিচালক কাজী মোজাম্মেল।
মামলার পর জেলা প্রেসক্লাবের সামনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে আবদুল্লাহ আল মুকিত বলেন, '২০২১ সালের ২৮ মার্চ মাইজদীর সনি-র্যাংগসের পরিবেশক হোসেন ইলেকট্রনিকস থেকে মালয়েশিয়ান কেলভিনেটর কেএইচভি ৩৩৩ এফএফ মডেলের একটি ফ্রিজ কিনেছি। বাসায় নেওয়ার পর কোথাও মালয়েশিয়ায় তৈরি মনোগ্রাম দেখতে পাইনি। এরপর ফ্রিজটিতে নানা ত্রুটি দেখা দেয়। শোরুমে অভিযোগ দিলে তারা সনি-র্যাংগস কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপরও তারা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'একই ঘটনায় কুমিল্লা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়েছে বলে জেনেছি। সবগুলো মামলা পিবিআইকে তদন্ত করতে দিয়েছেন আদালত। তাই নোয়াখালীসহ দেশের কোথাও যেন কারও সঙ্গে এমন প্রতারণা করতে না পারে সনি-র্যাংগস, এজন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচার প্রার্থনা করছি।'
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নুর আলম জিকু বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে এই কোম্পানি মানুষের কাছে নকল পণ্য বিক্রি করে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একজন ভুক্তভোগী আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে বিচারক মো. ইমদাদ হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, তারা সম্প্রতি জেলা শহর মাইজদীর র্যাংগসের পরিবেশক ‘হোসেন ইলেকট্রনিকস’ থেকে মালয়েশিয়ান কেলভিনেটর কেএসভি ৩৩৩ এফএফ মডেলের ফ্রিজ কিনেছেন। কিন্তু বাড়িতে নেওয়ার পর ফ্রিজ খুলে দেখতে পান মালয়েশিয়ান মনোগ্রাম নেই। কিছুদিন পর ফ্রিজে ত্রুটি দেখা দিলে শোরুম কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা র্যাংগস কর্তৃপক্ষকে জানায়। কিন্তু কয়েক মাস পার হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি র্যাংগস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাংগস অনুমোদিত পরিবেশক ‘হোসেন ইলেকট্রনিকসের’ পরিচালক কাজী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, 'আমি সনি-র্যাংগসের পরিবেশক। কোম্পানি যেভাবে প্রোডাক্ট দিচ্ছে আমরা সেভাবেই গ্রাহককে দিচ্ছি। মামলা যেহেতু হয়েছে এ বিষয়ে কোম্পানি জবাব দেবে। আমার কিছুই করার নেই।'
তিনি বলেন, 'ফ্রিজের সমস্যার বিষয়ে গ্রাহকরা আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি কোম্পানির লোকজনকে জানিয়েছি। তারা সার্ভিস সেন্টার থেকে কি সেবা দিয়েছে তা আমার জানা নেই। আমার শোরুমে নকল পণ্য বিক্রি হয় না। যদি কোম্পানি থেকে আসলের পরিবর্তে নকল পণ্য দেওয়া হয় তাহলে তো গ্রাহকের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও প্রতারিত হচ্ছি।'
র্যাংগসের নোয়াখালী জোনের এরিয়া ম্যানেজার ও মামলার আসামি ফরিদ উদ্দিন ইমাম বলেন, 'মামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসে র্যাংগসের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।'








