চাঁদপুরের হাইমচরে ট্রলারডুবির ৫ দিন পর রবিবার ৩ শিশুসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার জামাল বেপারীর ছেলে ফাহিম (১৭ মাস), গৃহবধূ আলেয়া বেগম ও তার মেয়ে স্বর্ণা (৪), লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা কুচ্চা গ্রামের মানিক (৪)। এ ঘটনায় এখনও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে স্বজনদের প্রচেষ্টায় ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা এসআই হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, রবিবার সকালে বরিশালের হিজলা থানার অন্তর্বান এলাকায় মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাইমচর থানার পুলিশের একটি দল গিয়ে লাশ নিয়ে আসে। আর ডুবে যাওয়া ট্রলার ‘রবিন’ উদ্ধারের পর সেটিতে ৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে একটি শিশুর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন লাশটি মানিক নামে শনাক্ত করছেন।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালি উল্লা জানান, রবিবার সকালে ওই শিশুর লাশ হিজলা এলাকার এক জেলের জালে আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর নিয়ে আসা হয়। শিশুটির গায়ে সোয়েটার ও গলায় থাকা চেইন দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করে ও তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।
নিহত শিশু ফাহিমের বাবা জামাল হোসেন ঘটনার পরপরই জানিয়েছিলেন, গত মঙ্গলবার সকালে তার নানা শ্বশুর মারা যায়। ওই সংবাদ শুনে ওই দিনই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা ‘এমভি রবিন’ নামের ট্রলারে করে হাইমচরের তেলিরমোড় থেকে ঈশানবালায় যাচ্ছিলেন। এ সময় নদীতে ঘনকুয়াশা ছিল। সকাল ১০টায় ট্রলারটি মেঘনা নদীর মাঝখানে তেলবাহী ট্যাংকার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে উল্টে যায়। যাত্রীদের অনেকে সাঁতরে নদীতীরে উঠলেও নিখোঁজ হন অন্তত ৯ জন।
এদিকে এ দুঘর্টনার প্রায় চার ঘণ্টা পর দমকল বাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও পরদিন বুধবার নৌ-বাহিনীর একটি ইউনিট উদ্ধারকাজে নামে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নৌ-বাহিনী আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করলেও পরে সরকারিভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সারওয়ার কামাল বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুর লাশটি আমরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ সময় জেলা প্রশাসকের তহবিল থেকে দাফন কাজের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
/টিএন/আপ-এআর/








