বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আন্দোলনের জোয়ার শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীদের সাহস দেখতে পাচ্ছি। সমর্থকরাও রাস্তায় নেমেছেন। বাংলাদেশে ও বিদেশে একটি কথা উঠেছে, এই সরকার আর কতদিন থাকবে। আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ। তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যে তর্জন-গর্জন শুরু করেছে। যত গর্জে তত বর্ষে না কিন্তু। যখন গর্জন বাড়তে থাকবে, দুর্বলতা তত বেশি বাড়ছে। সময়ের অপেক্ষা, সরকারের লোকজনও আমাদের আন্দোলনে চলে আসবে।’
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২২ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিএনপির ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ সভার আয়োজন করা হয়।
আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের তর্জন-গর্জনের দরকার হবে না। আমাদের গর্জন হবে কাজের মধ্য দিয়ে। বেশি কথা বলে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আমাদের আন্দোলন পরিকল্পিত। সুতরাং বক্তব্য দিয়ে এই সরকারকে, শেখ হাসিনাকে সরানো যাবে না। পরিকল্পিত আন্দোলনে সরকারের পতন হবে। আমাদের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সুশৃঙ্খল এবং জনসম্পৃক্ততা। সরকারের পতন ঘটাতে হলে জনসম্পৃক্ততাকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ, আন্দোলনে আমাদের সুবিধা হলো, দেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে চলে গেছে। তারা টাকা দিয়ে, মাস্তান দিয়ে যে কাজটি করতে পারবে না, সেটি আমরা সাধারণ জনগণকে দিয়ে করাতে পারবো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দুই হাজার লোক যদি প্রাণও দিই, তাহলেও সরকারের পতন সম্ভব নয়। এজন্য লাখ লাখ লোক নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। মানুষ যখন রাস্তায় নেমে যাবে, তখন সরকারের আশপাশের লোকজনও এদিকে ধাবিত হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরে এক ঘণ্টার ডাকে পুরো নগর অচল করার মতো নেতা আছে। কোনও জেলায় যদি আন্দোলনের জন্য নেতা প্রয়োজন হয়, তাহলে চট্টগ্রাম নগর থেকে নিয়ে যান। এদের নখদর্পণে পুরো নগর। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না, আঙুল বাঁকা করতে হবে। এখন নেতাকেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে নেতাকর্মীদের নিয়ে। বিএনপি কোনও বাহিনীর দল নয়, বিএনপি জনগণের দল।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিভাগীয় মনিটরিং টিমের প্রধান মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবদীন ফারুক, ড. মামুন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।









