‘শুধু মহাসড়কে ডিউটি করতে গিয়ে এই কয়েক মাসে কুমিল্লার চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। কয়েকদিন আগে কয়েকজন পুলিশ হামলার শিকারও হয়েছেন। তারপরও নিরাপদ সড়কের জন্য আমরা অবিরত কাজ করে যাচ্ছি। দিবসের এক দিনের জন্য আপনারা আসেন। আমাদের পরামর্শ দেন, কিন্তু আমরা ১২ মাস আপনাদের সেবায় নিয়োজিত। কুমিল্লার ১০৬ কিলোমিটার মহাসড়কের পাহারায় আছে মাত্র ২০০ পুলিশ। এত বড় জায়গায় মাত্র ২০০ পুলিশ সদস্য যথেষ্ট নয়। আমরা এদিকে গেলে ওই দিক থেকে কল আসে। ওই দিকে গেলে আরেক দিক থেকে কল আসে। আমরাও দৌড়ের ওপর থাকি। তারপরও চেষ্টা করছি, সবমিলিয়ে কীভাবে মানুষকে নির্বিঘ্নে পারাপার করা যায়।’
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২২ উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শনিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ।
সেখানে আসা পরিবহন চালক, মালিক ও অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দের প্রশ্নের জবাবে হাইওয়ে পুলিশের এই এসপি বলেন, ‘সড়ক ও জনপদ বিভাগ শুধুই ফুটওভার ব্রিজ করে যাচ্ছে। ফুটওভার ব্রিজে কুকুর ঘুমায়, মানুষ ওঠে না। ফুটওভার ব্রিজগুলো যেন কান্না করে। মানুষকে ফুটওভার ব্রিজে ওঠানোর জন্য আমরা দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় লোহার তারের বেড়া দিয়েছি। এবার মানুষ অভিনব কায়দায় ফুটওভার ব্রিজ এড়িয়ে সড়ক পার হয়। তারা বাস থেকে নামে তারের শেষ মাথায়, তারপরও ফুটওভার ব্রিজে ওঠে না। আর দুর্ঘটনায় পড়ে। তাই সবার আগে আমাদের সচেতন হতে হবে। এরপরই সড়কের দুর্ঘটনা কমবে।’
আলোচনা সভায় আগত অতিথিরা সড়কে সিসি ক্যামেরা বসানো, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো, সড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধসহ নানান প্রস্তাব করেন। পরে পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। এর আগে সকালে দিবসটি উপলক্ষে এক শোভাযাত্রার ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কবিরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রাজন কুমার দাস, বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী পার্কন চৌধুরী।









