চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকমীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার (২৬ অক্টোবর) রাতে কোতোয়ালী থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এতে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মঞ্জুর আলম তালুকদারসহ ১০ জনকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কাজীর দেউড়িতে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে চার পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়। হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ১৪ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে নগরের কোতোয়ালি থানার নাসিমন ভবনের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের ১০ নেতাকর্মীকে এবং পরে আরও চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
শহরের কাজির দেউড়ি নেভাল রোডে সড়কে একটি মিছিল বের করে দলটি। এতে পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। ফলে পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় কাজির দেউড়ি এলাকা।
দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২০ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।’
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শহরের কাজির দেউড়ি নেভাল রোডে স্বেচ্ছাসেবক দলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল বের করে। মিছিলের কারণে সড়কে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। কর্তব্যরত পুলিশ বাধা দিলে পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। এ সময় পুলিশ ১০ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ ফায়ার করে এবং দুইটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।’









