বিশ্বসাহিত্যের সর্বকালের সেরা ১০০ উপন্যাসের একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান। বিশ্বের ১৭০ জনেরও বেশি ঔপন্যাসিক, সাহিত্যসমালোচক ও গবেষকের ভোটের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়।
তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় ছিলেন স্টিফেন কিং, সালমান রুশদি, বার্নার্ডিন এভারিস্টো, ডেভিড নিকোলস, এলিফ শাফাক, ইয়ান ম্যাকইউয়ান, অ্যান এনরাইট, ম্যাগি ও’ফ্যারেল ও কোলম টইবিনের মতো সমকালীন সাহিত্যের বহু খ্যাতিমান লেখক। প্রত্যেককে তাদের পছন্দের ১০টি উপন্যাসের তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে ভোটের সমন্বয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস ক্রমশ কমে যাওয়ায় এমন একটি তালিকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত বই পড়েন না। শিশু ও তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে পাঠকদের সেরা সাহিত্যকর্মের সঙ্গে পরিচয় করার লক্ষ্যেই তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এই তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে জর্জ এলিয়টের বিখ্যাত উপন্যাস Middlemarch। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন নোবেলজয়ী লেখক টনি মরিসনের Beloved । তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেমস জয়েসের Ulysses এবং চতুর্থ স্থানে ভার্জিনিয়া উলফের To the Lighthouse। পঞ্চম স্থানে রয়েছে মার্সেল প্রুস্তের মহাকাব্যিক রচনা In Search of Lost Time।
এবারের তালিকায় ৩৬ জন নারী লেখকের উপন্যাস রয়েছে, যেখানে কিনা ২০১৫ সালের তালিকায় এই সংখ্যা ছিল ২১ এবং ২০০৩ সালে ছিল মাত্র ১৬। ভার্জিনিয়া উলফের পাঁচটি উপন্যাস তালিকায় স্থান পেয়েছে।
জেন অস্টেন ও চার্লস ডিকেন্সের চারটি করে উপন্যাস অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জীবিত লেখকদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন সালমান রুশদি।
প্রশংসার চেয়ে বিতর্কই বেশি
অনেক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী লেখক এতে স্থান পায়নি, যেমন: জে. আর. আর. টলকিন, সি. এস. লুইস, উইলিয়াম গোল্ডিং, জন আপডাইক ও ফিলিপ রথের মতো সাহিত্যিকরা। এমনকি স্টিফেন কিংয়ের নিজের কোনো উপন্যাসও তালিকায় নেই।
অনেকেই মন্তব্য করেন, নতুন পাঠকদের এমন দীর্ঘ, জটিল ও গম্ভীর উপন্যাসের তালিকার চেয়ে “পাঠাভ্যাস গড়ার ১০০ সেরা বই”-এর তালিকা বেশি কার্যকর হতে পারত। এমন তালিকায় জনপ্রিয় ও সহজপাঠ্য লেখকদের স্থান থাকা উচিত, কারণ অনেক মানুষের পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে জনপ্রিয় সাহিত্য পড়ার মাধ্যমেই।
গোল্ডস্মিথস বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অ্যালান ডাউনি বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কেন আঠারো শতকের প্রভাবশালী ঔপন্যাসিক হেনরি ফিল্ডিংয়ের বিখ্যাত উপন্যাস Tom Jones তালিকায় স্থান পায়নি? ডাউনির মতে, ইংরেজি উপন্যাসের বিকাশে ফিল্ডিংয়ের ভূমিকা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তার সাহিত্যিক প্রভাব ছাড়া জর্জ এলিয়ট, চার্লস ডিকেন্স কিংবা জেন অস্টেনের মতো ঔপন্যাসিকদের সৃজনশীল বিকাশ কল্পনা করাও কঠিন।
ড. জেমস টেইলর মন্তব্য করেন, শীর্ষস্থানীয় উপন্যাসগুলোর বিশাল আকার পাঠকদের অনুপ্রাণিত করার বদলে অনেক সময় ভীত করে তুলতে পারে। In Search of Lost Time (প্রায় ৪,২০০ পৃষ্ঠা), War and Peace (প্রায় ১,৪০০ পৃষ্ঠা) এবং Anna Karenina (প্রায় ৮৫০ পৃষ্ঠা)-এর মতো বিশাল আয়তনের গ্রন্থগুলো সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও সাধারণ পাঠকের কাছে
গার্ডিয়ানের মতে, সাহিত্যে 'সেরা' নির্ধারণের কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড নেই। একটি উপন্যাস হয়তো সমাজকে বদলে দেয়, আরেকটি পাঠকের ব্যক্তিগত জীবনকে স্পর্শ করে। ফলে এ ধরনের তালিকা কখনোই চূড়ান্ত নয়—সাহিত্য নিয়ে নতুন আলোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত ঘটানোই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
সেরা ১০০ উপন্যাসের তালিকা :
১. জর্জ এলিয়টের Middlemarch (১৮৭১–১৮৭২)
২. টনি মরিসনের Beloved (১৯৮৭)
৩. জেমস জয়েসের Ulysses (১৯২২)
৪. ভার্জিনিয়া উলফের To the Lighthouse (১৯২৭)
৫. মার্সেল প্রুস্তের In Search of Lost Time (১৯১৩–১৯২৭)
৬. লিও টলস্টয়ের Anna Karenina (১৮৭৮)
৭. লিও টলস্টয়ের War and Peace (১৮৬৯)
৮. শার্লট ব্রন্টির Jane Eyre (১৮৪৭)
৯. জেন অস্টেনের Pride and Prejudice (১৮১৩)
১০. গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের Madame Bovary (১৮৫৬)
১১. এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের The Great Gatsby (১৯২৫)
১২. চার্লস ডিকেন্সের Bleak House (১৮৫২–১৮৫৩)
১৩. জেন অস্টেনের Emma (১৮১৫)
১৪. ভার্জিনিয়া উলফের Mrs Dalloway (১৯২৫)
১৫. হারম্যান মেলভিলের Moby-Dick (১৮৫১)
১৬. জর্জ অরওয়েলের Nineteen Eighty-Four (১৯৪৯)
১৭. গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের One Hundred Years of Solitude (১৯৬৭)
১৮. জেন অস্টেনের Persuasion (১৮১৭)
১৯. লরেন্স স্টার্নের The Life and Opinions of Tristram Shandy, Gentleman (১৭৫৯–১৭৬৭)
২০. এমিলি ব্রন্টির Wuthering Heights (১৮৪৭)
২১. হেনরি জেমসের The Portrait of a Lady (১৮৮১)
২২. চিনুয়া আচেবের Things Fall Apart (১৯৫৮)
২৩. সালমান রুশদির Midnight’s Children (১৯৮১)
২৪. কাজুও ইশিগুরোর The Remains of the Day (১৯৮৯)
২৫. ভ্লাদিমির নাবোকভের Lolita (১৯৫৫)
২৬. মিগেল দে সের্ভান্তেসের Don Quixote (১৬০৫, ১৬১৫)
২৭. ফ্রাঞ্জ কাফকার The Trial (১৯২৫)
২৮. ফিওদর দস্তয়েভস্কির The Brothers Karamazov (১৮৮০)
২৯. ভ্লাদিমির নাবোকভের Pale Fire (১৯৬২)
৩০. মেরি শেলির Frankenstein (১৮১৮)
৩১. মুরিয়েল স্পার্কের The Prime of Miss Jean Brodie (১৯৬১)
৩২. অরুন্ধতী রায়ের The God of Small Things (১৯৯৭)
৩৩. চার্লস ডিকেন্সের David Copperfield (১৮৫০)
৩৪. হিলারি ম্যান্টেলের Wolf Hall (২০০৯)
৩৫. চার্লস ডিকেন্সের Great Expectations (১৮৬১)
৩৬. মার্গারেট অ্যাটউডের The Handmaid’s Tale (১৯৮৫)
৩৭. রাল্ফ এলিসনের Invisible Man (১৯৫২)
৩৮. এডিথ ওয়ার্টনের The Age of Innocence (১৯২০)
৩৯. জোরা নিল হার্স্টনের Their Eyes Were Watching God (১৯৩৭)
৪০. টনি মরিসনের Song of Solomon (১৯৭৭)
৪১. জোসেফ কনরাডের Heart of Darkness (১৮৯৯)
৪২. টমাস মানের The Magic Mountain (১৯২৪)
৪৩. মেরিলিন রবিনসনের Housekeeping (১৯৮০)
৪৪. জেমস বল্ডউইনের Giovanni’s Room (১৯৫৬)
৪৫. ডরিস লেসিংয়ের The Golden Notebook (১৯৬২)
৪৬. জুসেপ্পে তোমাসি দি লাম্পেদুসার The Leopard (১৯৫৮)
৪৭. উইলিয়াম মেকপিস থ্যাকারির Vanity Fair (১৮৪৭–১৮৪৮)
৪৮. ফ্রাঞ্জ কাফকার The Metamorphosis (১৯১৫)
৪৯. রোহিন্টন মিস্ত্রীর A Fine Balance (১৯৯৫)
৫০. জিন রাইসের Wide Sargasso Sea (১৯৬৬)
৫১. এলেনা ফেরান্তের My Brilliant Friend (২০১১)
৫২. হেনরি জেমসের The Golden Bowl (১৯০৪)
৫৩. শার্লি হ্যাজার্ডের The Transit of Venus (১৯৮০)
৫৪. ভার্জিনিয়া উলফের Orlando (১৯২৮)
৫৫. ভার্জিনিয়া উলফের The Waves (১৯৩১)
৫৬. জেন অস্টেনের Mansfield Park (১৮১৪)
৫৭. উইলিয়াম ফকনারের The Sound and the Fury (১৯২৯)
৫৮. জে. এম. কোয়েটজির Disgrace (১৯৯৯)
৫৯. কাজুও ইশিগুরোর Never Let Me Go (২০০৫)
৬০. ই. এম. ফরস্টারের Howards End (১৯১০)
৬১. ডব্লিউ. জি. সেবাল্ডের The Rings of Saturn (১৯৯৫)
৬২. চিমামান্ডা এনগোজি আদিচির Half of a Yellow Sun (২০০৬)
৬৩. জেডি স্মিথের White Teeth (২০০০)
৬৪. ফোর্ড ম্যাডক্স ফোর্ডের The Good Soldier (১৯১৫)
৬৫. অ্যালিস ওয়াকারের The Color Purple (১৯৮২)
৬৬. মিখাইল বুলগাকভের The Master and Margarita (১৯৬৭)
৬৭. রবার্ট মুসিলের The Man Without Qualities (১৯৩০–১৯৪৩)
৬৮. করম্যাক ম্যাককার্থির Blood Meridian (১৯৮৫)
৬৯. ফিওদর দস্তয়েভস্কির Crime and Punishment (১৮৬৬)
৭০. টমাস হার্ডির Jude the Obscure (১৮৯৫)
৭১. অক্টাভিয়া ই. বাটলারের Kindred (১৯৭৯)
৭২. চার্লস ডিকেন্সের Our Mutual Friend (১৮৬৪–১৮৬৫)
৭৩. ডব্লিউ. জি. সেবাল্ডের Austerlitz (২০০১)
৭৪. সিতসি ডাঙ্গারেম্বগার Nervous Conditions (১৯৮৮)
৭৫. টনি মরিসনের The Bluest Eye (১৯৭০)
৭৬. ব্রাম স্টোকারের Dracula (১৮৯৭)
৭৭. ডি. এইচ. লরেন্সের The Rainbow (১৯১৫)
৭৮. ভি. এস. নাইপলের A House for Mr Biswas (১৯৬১)
৭৯. জেমস বল্ডউইনের Go Tell It on the Mountain (১৯৫৩)
৮০. ড্যাফনি দ্যু মরিয়ের Rebecca (১৯৩৮)
৮১. টমাস মানের Buddenbrooks (১৯০১)
৮২. গ্রাহাম গ্রিনের The End of the Affair (১৯৫১)
৮৩. আর্নেস্ট হেমিংওয়ের A Farewell to Arms (১৯২৯)
৮৪. প্যাট্রিসিয়া হাইস্মিথের The Talented Mr Ripley (১৯৫৫)
৮৫. হান কাংয়ের The Vegetarian (২০০৭)
৮৬. হেনরি জেমসের The Turn of the Screw (১৮৯৮)
৮৭. অ্যালান হোলিংহার্স্টের The Line of Beauty (২০০৪)
৮৮. ই. এল. ডক্টোরোর Ragtime (১৯৭৫)
৮৯. উরসুলা কে. লে গুইনের The Left Hand of Darkness (১৯৬৯)
৯০. ভার্জিনিয়া উলফের Jacob’s Room (১৯২২)
৯১. ভাসিলি গ্রসম্যানের Life and Fate (১৯৮০)
৯২. গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের Sentimental Education (১৮৬৯)
৯৩. ইতালো কালভিনোর Invisible Cities (১৯৭২)
৯৪. এডওয়ার্ড পি. জোনসের The Known World (২০০৩)
৯৫. টমাস হার্ডির The Return of the Native (১৮৭৮)
৯৬. হুয়ান রুলফোর Pedro Páramo (১৯৫৫)
৯৭. জোসেফ হেলারের Catch-22 (১৯৬১)
৯৮. করম্যাক ম্যাককার্থির The Road (২০০৬)
৯৯. এল. পি. হার্টলির The Go-Between (১৯৫৩)
১০০. উইলা ক্যাথারের My Ántonia (১৯১৮)









